বিবৃতিতে ফখরুল

বিএনপিকে ধ্বংস করতে জড়ানো হয়েছে ২১ আগস্ট মামলায়

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ০২:৪৮ এএম

বিএনপিকে ধ্বংস করতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়ানো হয়েছে বলে মনে করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপিকে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই ২১ আগস্ট সংক্রান্ত মামলায় বিএনপিকে জড়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য এখনো চলমান রয়েছে। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের স্মরণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি আমাকে মারার চেষ্টা করেছেন’। এ ছাড়াও তিনি খালেদা জিয়াকে নিয়ে আরও মনগড়া ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, যা অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, আকস্মিক হামলার ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হতবাক ও বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি দ্রুত হতাহতদের খবর নিতে থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে দেখতে সিএমএইচে যান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানাতে চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ক্যাবিনেট নিন্দা জানান, নিহত ও আহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান এবং দোষীদের বিচারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার কাছে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজ স্বাক্ষরে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে পত্র পাঠান। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দাবি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত একজন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) ২১ আগস্ট হামলার সঙ্গে তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্য নেতৃবৃন্দের জড়িত থাকার কোনো উল্লেখ নেই। খালেদা জিয়ার নাম কেউ কখনই উচ্চারণ করেনি। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশি পুনঃতদন্তের মাধ্যমে রচিত সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্য নেতৃবৃন্দের নাম জড়ানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতে মুফতি হান্নানের পূর্বের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনের সংবাদটি ওই মাসের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। সংবাদটি এরকম ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে মুফতি আব্দুল হান্নান। আবেদনে এই জঙ্গি নেতা দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় এ ধরনের কোনো জবানবন্দি আদালতে দেননি। ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তার সই আদায় করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত