নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রী কিশোরীকে (১৫) ‘গণধর্ষণ ও হত্যা’ মামলায় আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ওই কিশোরীর ফিরে আসার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা এবং মামলাপরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা এবং যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে মামলার নথি তলব ও উপযুক্ত আইনি আদেশের আর্জি জানানো হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়া নিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ৪৫ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়টি গত সোমবার হাইকোর্টের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আদালত তখন আইনজীবীকে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করতে বলে। আজ বুধবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান শিশির মনির।
এদিকে ওই কিশোরী গতকাল নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যদিকে নিখোঁজ থাকাবস্থায় তাকে বিয়ে করা ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে জবানবন্দি দেয় ও কিশোরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, কিশোরীর মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে। বিকেলে সে জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিশোরীর স্বামী ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বুধবার (আজ) রিমান্ড শুনানি হবে।
মামলার নথিপত্রের বরাতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির জানান, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর ৬ আগস্ট তার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা করেন। এরপর পুলিশ আব্দুল্লাহ (২২), রকিব (১৯) ও খলিল (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডের পর নারায়ণগঞ্জের বিচারিক হাকিমের আদালতে তিনজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। জবানবন্দিতে তারা জানান, কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট জানা যায় কিশোরীকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘ওই কিশোরী অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কীভাবে তিনজনের নামে মামলা হলো, কীভাবে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন এবং কীভাবে তা রেকর্ড হলো? এটি পর্যালোচনা করে উপযুক্ত আইনি আদেশের জন্য হাইকোর্টের কাছে আর্জি জানিয়েছি।’
