সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা ছাড়াই শূন্য হওয়া পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে দলীয় চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাড়তি স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে এবার মনোনয়ন বোর্ডের সভা হবে না বলে একাধিক বোর্ড সদস্য জানিয়েছেন।
সংসদীয় বোর্ডের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সব কাগজপত্র বোর্ড সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের সব সদস্য শূন্য আসনগুলোতে উপনির্বাচনের জন্য দক্ষ প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে অর্পণ করেছেন।’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার জানামতে, নির্বাচন কমিশন পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনের যে তফসিল দিয়েছে, সে অনুযায়ী ভোট হবে না, পিছিয়ে যাবে। অন্যান্য শূন্য আসনেও নির্বাচন পেছাবে।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি এখনো কমেনি বরং আগের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। বোর্ড সভাও সম্ভব নয়।’
বোর্ডের অন্য এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে মিটিং-সিটিং করা ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মানতেই শেখ হাসিনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য প্রবীণ। তাদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। সবকিছু বিচার-বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর ওপর এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
ইসির তফসিল অনুযায়ী, পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর। আগ্রহী প্রার্থীরা ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ৩ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। পাবনার এ নির্বাচনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালটে ভোটগ্রহণ চলবে। ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬-এর উপনির্বাচন হবে ১৭ অক্টোবর। তবে এ দুটি আসনে তফসিল দেয়নি নির্বাচন কমিশন। এর বাইরে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ কিংবা তফসিল এখনো দেয়নি ইসি।
আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্যান্য শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও দলীয় মনোনয়নপত্র যারা কিনেছেন, তাদের মধ্য থেকে দক্ষতা-যোগ্যতা ও ত্যাগ বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা।’
এতদিন সংসদীয় বোর্ডের সভার সব সদস্যের পর্যালোচনা এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করে আসছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু করোনার কারণে এবার চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে দিয়েছেন বোর্ড সদস্যরা।
ইতিমধ্যে শূন্য পাঁচটি আসনে ১৪১ মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে সর্বোচ্চ এবং সিরাজগঞ্জে সর্বনিম্ন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী রয়েছেন। এত সংখ্যক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ হওয়ায় দলের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
