কভিড-১৯ ভাইরাসের মতোই তীব্রভাবে হানা দিয়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু। ৫ কোটিরও বেশি মানুষ মারা যায় ওই ফ্লুতে। সে সময় তীব্র সংকটের মধ্যেও বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর। শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। লিখেছেন ওমর শাহেদ
স্কুল খোলা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক
বিশ্বজুড়ে এখনো অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে চলেছে করোনাভাইরাস। সংক্রমণের অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে দেশে দেশে। অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, থমকে গেছে শিক্ষাব্যবস্থা। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা চালু করা হয়েছে। ‘কভিড-১৯’ ভাইরাসে সবচেয়ে আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্র। তারপরও দেশটিতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ মহামারীর মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। দেশটিতে গ্রীষ্মকাল থেকেই সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর তরুণ শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা আবারও কলেজে ফিরতে শুরু করেছে। এতে কলেজে যাওয়া শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।
মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে কলেজের বাইরে, যেখানে শিক্ষার্থীরা একত্র হচ্ছে। মেয়েরা যেসব জায়গায় বসে গল্প করছে সেগুলোতে কিংবা ছেলেরা যেসব জায়গায় হই-হুল্লোড় করছে সেসব জায়গায় রোগটি একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে তাদের ডরমিটরিতেও ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে। এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এতে দেশের ফল সেমিস্টার কীভাবে চালু রাখা যাবে সেই সন্দেহ হচ্ছে সবার।
নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ‘দ্য অ্যাপালেইশন স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ফুটবল দলের সংস্পর্শে এসেছিলেন শিক্ষার্থীরা। তারা ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। লোয়া অঙ্গরাজ্যের ‘লোয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ১৭৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা ‘পজিটিভ’ এসেছে। তাদের ২.২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটি খোলার পর নতুন করে রোগাক্রান্ত হয়েছেন। এই বিষয়ে বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ ও মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের সাবেক স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. লিয়েনা ওয়েন বলেছেন, ‘যেখানে সারা দেশের সবখানেই মহামারী রোগের প্রাদুর্ভাব চলছে, সেখানে নিজেকে একটি নিরাপদ অবস্থায় রাখা আসলেই অসম্ভব। কলেজে জমায়েত বন্ধ রাখাও অসম্ভব। কোনো বিশেষজ্ঞই করোনাভাইরাসকে দূরে রাখতে পারবেন না।’
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখনো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। চলতি মাসে দেশটিতে অন্তত ১২ বার হাজারের বেশি সংক্রমিত মানুষ মারা গেছে। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সরকারি হিসেব অনুযায়ী, গত মাসে অন্তত ১০ বার দিনে ২ শতাধিক মানুষ কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সমগ্র দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষ সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে আর আক্রান্ত হয়েছে ৬১ লাখেরও বেশি মানুষ। বয়স্ক আমেরিকান ও খারাপ পরিবেশে বসবাস করা মানুষরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের শঙ্কায় আছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তবে মহামারীর মধ্যে বিদ্যালয়গুলো খোলা রাখা হবে কি না সে বিষয়ে দ্বিধায় আছে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ। মহামারীর ইতিহাস বহু পুরনো। শত বছর আগে মহামারীর মধ্যেই বিদ্যালয় খোলা রেখে চমকে দিয়েছিল সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই। সে জন্যই তারা হয়তো এবারও সেই উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্যতিক্রমী তিন শহর
আজ থেকে ১০২ বছর আগে, ১৯১৮ সালের ঘটনা। যদিও সেই সময়ের পৃথিবী এখনকার চেয়ে অনেক ব্যতিক্রম ছিল। মানুষ ছিল কম, খোলা জায়গা ছিল অনেক বেশি। জীবনযাপনও ছিল সহজ স্বাভাবিক। আজকের মতো ৩ ফিট দূরে থেকে জীবন বাঁচানোর দায় ছিল না তখন। তারপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আমেরিকা সহ অন্যান্য দেশে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছিল।
সেই সময়টিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মাধ্যমে তৈরি মহামারী আঘাত করেছিল পৃথিবীকে। ভাইরাসটিকে চিকিৎসা ও ভাইরাসবিদ্যায় বলা হয় ‘দা স্প্যানিশ ফ্লু’। এইচওয়ানএনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসটি পৃথিবীতে দাপট দেখিয়েছিল দীর্ঘ ২৫ মাস। ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। বিশ্বে তখন ছিল মাত্র ১৫০ কোটি মানুষের বসবাস। চিকিৎসাবিজ্ঞান তত উন্নত ছিল না বলে রোগাক্রান্ত ও ধুঁকে ধুঁকে মরা মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। অন্য সব ভাইরাসবাহিত রোগের মতো ওই ভাইরাসটিও নিজের রূপ বদলে ফেলতে পেরেছিল। চারটি ধাপে তাই রোগটি ছড়িয়েছিল। ইতিহাসের অন্যতম মহামারী হিসেবে একে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ৫ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই ভাইরাসের কারণে। তার মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রাণ হারিয়েছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ।
ইতিহাসবিদদের মতে, স্প্যানিশ ফ্লু’র সময়টিতে দেশটির বেশিরভাগ শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। তবে নিউ ইয়র্ক, শিকাগো ও নিউ হ্যাভেন এই তিনটি শহর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কেন? সে প্রশ্নের জবাব হলো, সেসব শহরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মূলত জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পূর্বানুমানের ওপর নির্ভর করেছিলেন। যারা তাদের বলেছিলেন যে, ছাত্রছাত্রীরা মহামারীর মধ্যেও বিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ থাকবে। বিদ্যালয়ে এলে তারা আরও ভালো থাকবে। মোটের ওপর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ হলো মানুষের প্রগতিশীলতার ধারা। তারা জোর দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর এবং অসংখ্য নার্স নিযুক্ত ছিলেন শিক্ষার্থীদের জন্য।
নিউ ইয়র্কের অভিজ্ঞতা
১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা শহর নিউ ইয়র্কে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখের মতো। তাদের ৭৫ শতাংশই মা-বাবার সঙ্গে ভাড়া করা ফ্ল্যাটে থাকত। সেগুলো ছিল কোলাহলে, ঠাসাঠাসিতে পূর্ণ। প্রায়ই তারা অস্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহার করতে বাধ্য হতো। এ ধরনের বাড়ি শহরের নানা জেলায় ঘিঞ্জিভাবে ছিল। তবে সেগুলোর চেয়ে কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়গুলো ছিল একেবারেই আলাদা; যেন এক, একটি স্বর্গভূমি। কারণ সেগুলো ছিল পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাসে ভরা। স্বাস্থ্যকর এমন পরিবেশে শিক্ষকরা তো তাদের পাশে ছিলেনই। তারা শিক্ষা প্রশাসন ও অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে মানুষের অন্যতম ভয়ংকর মহামারীর হাত থেকে আগামী দিনের নাগরিকদের বাঁচাতে দারুণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিযুক্ত হয়েছিলেন অসংখ্য নার্স। তাদের সঙ্গে মিলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের স্বাস্থ্য ও নানা রোগ এবং এই স্প্যানিশ ফ্লুয়ের হাত থেকে বাঁচাতে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন তারা।
মার্কিন চিকিৎসক হাওয়ার্ড মার্কেল বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক ছিল দেশে সবচেয়ে খারাপভাবে আক্রান্ত হওয়া শহরগুলোর একটি। যেখানে রোগটি এসেছিল আগে, মেরেছেও বেশি সংখ্যক মানুষকে।’ হাওয়ার্ড মার্কেল একজন চিকিৎসা ইতিহাসবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান’-এর সেন্টার ফর হিস্ট্রি অব মেডিসিনের পরিচালক। এই ইতিহাসবেত্তাই ২০১০ সালে সেই জনস্বাস্থ্য বিষয়ের প্রতিবেদনগুলোর সহ-লেখক। যারা সেই সময়ের মহামারী রোগটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩টি শহরের তথ্যাবলি ও ইতিহাসের দলিলাদি ঘেঁটে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন। মার্কেল অবশ্য অন্যদের মতো বিদ্যালয় খোলা রাখার পক্ষে অতটা যুক্তি দেননি। বলেছেন, ‘অন্য শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেনি নিউ ইয়র্ক, সবচেয়ে ভালোও করেনি। তাদের চেয়ে শিকাগো সামান্য ভালো করেছে।’ তিনি বলেছেন, ‘দেশের যে শহরগুলো কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন প্রয়োগ করেছিল, বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রেখেছিল এবং জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছিল তারাই সবচেয়ে ভালো করেছে।’
মার্কেল এই কথাও বলেছেন যে, ‘কভিড-১৯ রোগটি কিন্তু ১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়। নভেল করোনাভাইরাস সম্পর্কে এখনো আরও অনেক কিছু জানার বাকি আছে। রোগটি থেকেই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতে হবে। ফলে সেই আমলের মতো নয়, এই সময়ের মতো করে মহামারী রোগটিকে মোকাবিলা করতে হবে। আমার মতে, কভিড ১৯ রোগের হাত থেকে মানুষ ও শিশুদের বাঁচাতে বন্ধ রাখা আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত। দুঃখ প্রকাশ করার চেয়ে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা উত্তম।’
বাইরে ঘোরাঘুরির বদলে স্কুলে
১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু সম্পর্কে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. রয়্যাল এস. কোপল্যান্ড জানান, তখন বেশিরভাগ সময় এই কারণেই মহামারীর মধ্যেও বাড়ি থেকে ছেলেমেয়েরা বেরিয়ে পড়ত। কারণ তাদের বিদ্যালয় ভবনগুলো ছিল আরও অনেক বড়, আরও পরিষ্কার ও আলো বাতাসে ভরা। সেখানে তারা ভালোভাবে আছে কি-না সেগুলো দেখার জন্য সব সময়ই চিকিৎসকদের কার্যক্রম চলছিল। নিয়মতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই এটি কার্যকর ছিল। সবার মনে ওদের ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তাই ছিল। তাই কোনোভাবেই তাদের বিদ্যালয়ের বাইরে অন্য কোথাও জড়ো হতে দেওয়া হয়নি। যেটি এখন চলছে। কাউকে এভাবে দেখলে তাদের শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করা হতো। তারা ফিরিয়ে আনতেন। শিক্ষকরা তাদের মধ্যে ফ্লুটির কোনো লক্ষণ আছে কী না ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। আজকের চিকিৎসাব্যবস্থার মতোই কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর মধ্যে তেমন কোনো লক্ষণ থাকলে তাকে আলাদা আইসোলেশনে রাখা হতো। যদি কারও মধ্যে জ্বর দেখা যেত তাহলে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকরা শহরের স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাতেন। তখন বিভাগের কর্মকর্তারাই তাদের বাড়িতে দিয়ে আসতেন। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতেন। পরীক্ষা করতেন তারা ভালো আছে কি-না? নাকি আইসোলেশনে রাখতে হবে। কথাগুলো লেখা আছে তখনকার পাবলিক হেলথ রিপোর্টে। আরও বলা হয়েছে কোনো ছাত্রছাত্রীর অবস্থা ভালো না দেখলে কোনো দ্বিমত না করেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হতো। সেখানেও আলাদা যতœ পেত শিশুরা।’
সেই সময়ের পাবলিক হেলথ রিপোর্টগুলোতে উল্লেখ আছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেখাশোনা করা হতো সরকারিভাবে। তাদের মা-বাবার সঙ্গে আলাপ করে স্বাস্থ্য বিভাগই নির্ধারণ করত মহামারী রোগে আক্রান্ত শিশুকে বাড়িতে রেখে পারিবারিক চিকিৎসকের মাধ্যমে ভালো করা হবে নাকি স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করা হবে। তবে পুরো কাজের জন্য সরকার কোনো পয়সাই নিত না।
শিকাগোর স্কুল ব্যবস্থাপনা
স্প্যানিশ ফ্লু চলাকালীন শিকাগো শহরে লেখাপড়া করত প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী। শহরের বিদ্যালয়গুলো খোলা রাখা হয়েছিল এই ভেবে যে, স্কুলে আসলে শিক্ষার্থীরা আর মহামারীর মধ্যে বাড়ির বাইরে এলোমেলো ঘুরবে না। বাড়ি থেকে পালিয়ে বা মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে বেরিয়ে পথে পথে মহামারীর মধ্যে ঘুরে বেড়াবে না। এভাবে তাদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রেখেছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। সরকার তাদের বাঁচানোর জন্য সাহায্য করেছে। আরও লক্ষ্য ছিল-এভাবে সুরক্ষিত থেকে তারা যেন বড়দের মাধ্যমে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে পারে। শিকাগো শহরের কর্মকৌশলের মধ্যে আরও ছিল-বিদ্যালয়গুলোতে নির্মল বাতাস যেন প্রবাহিত হতে পারে। শীতকালে বিদ্যালয়ের ঘরগুলো অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়। ফলে সারা বছরই এগুলো খোলা রাখার ব্যবস্থা করে তারা এভাবে বিদ্যালয়কে উষ্ণ রেখেছেন। তাতে খুব কাজ হয়েছিল। শীতবাহিত রোগের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল হাজার হাজার শিশু ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ১৯১৮ সালে শিকাগোর স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে উপসংহার টানা হয়েছে এভাবে, ‘এই ভিন্ন ধরনের, অত্যন্ত কার্যকর, সুদূরপ্রসারী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তেএভাবে এই অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো সাম্প্রতিক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর সময়ে খোলা রাখা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তটি সঠিক ও কার্যকর ছিল। এতে ছাত্র, ছাত্রীদের অযথা বিদ্যালয় কামাই করার অভ্যাসও বদলে গিয়েছিল। ফলে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে লেখাপড়া করেছে।’ এসব কারণে শিকাগো শহরে মহামারী রোগটির খুব বেশি থাবা পড়তে পারেনি।
তবে কেবল নিউ ইয়র্ক, শিকাগো কিংবা নিউ হ্যাভেন শহরই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছিল আরও বেশ কিছু শহর। পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীরা সে সময় আক্রান্তদের সাহায্য করার জন্য নানা ধরনের কাজ করেছে। সে ছিল এক অভিনব উদ্যোগ।
