সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি (প্রিজন্স) বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরের সাবেক ডিআইজি বজলুর উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। এ আদেশে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর চার্জ শুনানির তারিখ ধার্য করে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীন এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বজলুর রশীদ ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী রোডে নির্মাণাধীন একটি প্রকল্পে ২৯৮১ বর্গফুট আয়তনের অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন। ইতিমধ্যে তিনি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য বাবদ ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এ অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বাবদ বজলুর রশীদ যে টাকা পরিশোধ করেছেন, এর পক্ষে কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। এমনকি তিনি অ্যাপার্টমেন্টের ক্রয়সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার আয়কর নথিতে দেখাননি। পরিশোধিত টাকা তার জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য বজলুর রশীদ চুক্তি করেছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। আর বাকি ৩ কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করেন। তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কারা ক্যাডারের ১৯৯৩ ব্যাচের কর্মকর্তা বজলুর রশীদ ঢাকায় কারা সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। ডিআইজি হিসেবে এর আগে সর্বশেষ রাজশাহীতে ছিলেন।
