উপসংহার ছাড়াই শেষ মেসির বাবা ও বার্তোমেউয়ের বৈঠক

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২৫ এএম

লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ছাড়া নিয়ে তার বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। তবে কোনো উপসংহার ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই আলোচনা। দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে।

স্পেনের সময় অনুযায়ী বুধবার বিকেলে দুই পক্ষ আলোচনায় বসে। মেসির চলে যাওয়া নিয়ে দুই ঘণ্টা বৈঠক হয় তাদের। তারা দাবি করছে যে, প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণভাবে ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের অবস্থান একই রয়েছে। মেসি ক্লাব ছাড়তে ইচ্ছুক। অর্থাৎ দুই পক্ষের এই ‘দাবা খেলা’ আপাতত চলবে।

এই বৈঠকের জন্যই মেসির বাবা আর্জেন্টিনার রোসারিও থেকে উড়ে আসেন। উল্লেখ্য তিনি আর্জেন্টাইন তারকার এজেন্টও। বৈঠকে মেসির বাবা ও বার্তোমেউ ছাড়াও মেসির ভাই রদ্রিগো মেসি, তাদের আইন উপদেষ্টা এবং বার্সা ডিরেক্টর জাভিয়ের বোর্দাসকে দেখা গেছে।

দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা বা চুক্তি থেকে দুই পক্ষই দূরে রয়েছে। তবে সভাটি কোনো উত্তেজনাপূর্ণ ছিল না। নিকট ভবিষ্যতে তারা আরো আলোচনার জন্য নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখবে।

বার্সেলোনা শুরু থেকেই বলে আসলে ফ্রি ট্রান্সফারে মেসির ক্লাব ছাড়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। বার্তোমেউ অনড় যে, চুক্তির এই ধারাটি ১০ জুনই শেষ হয়ে গেছে। এর অর্থ মেসি এখনো বার্সায় চুক্তি বদ্ধ এবং সে অনুশীলনে যোগ দিতে পারে। যেটা যে কোনো সময়ই হতে পারে।

ক্লাব সভাপতি এটিও পুনরাবৃত্তি করেছেন যে, মেসিকে কোনোভাবেই তারা বিক্রির জন্য আলোচনা করতে চায় না। মেসি তাদের ক্রীড়া প্রকল্পের মূল অংশ এবং তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ।

মেসির দিক থেকে বললে, তিনি ব্যুরোফ্যাক্সে তার অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। যিনি ফ্রি ট্রান্সফার ফিতে বার্সা ছাড়তে চান।

কিন্তু সে জন্য ১০ জুনের যে ডেডলাইন ছিল, সেটি করোনার কারণে এবার বেড়েছে বলে দাবি তার। কারণ এবার করোনার কারণে মৌসুমই শেষ হয়েছে দেরিতে। মেসির বাবা আলোচনার জন্য বার্সেলোনায় আসার পরও সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, মেসির কাতালান ক্লাবে থাকা ‘খুব কঠিন’।

অর্থাৎ দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা বলার উপায় নেই।

পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে, মেসি প্রথমবারের মতো সবার সামনে মুখ খুলবেন। অথবা তিনি যদি বার্সার ট্রেনিং মিস করা অব্যাহত রাখেন, তাহলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে কড়াভাবে কিছু বলবে।

অথবা এমনও হতে পারে মেসি নিজের দাবিতে অনড় থাকবেন এবং বিষয়টির আদালতে নিষ্পত্তি চাইবেন। তবে ক্লাব ও মেসি দুই পক্ষই নাকি আইনি জটিলতায় যেতে চায় না।

৮ দিন গত হলো মেসি বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর। এরপর তিনি বার্সার অনুশীলন ও তার আগে করোনা পরীক্ষায় যোগ দেননি। তিনি বিশ্বাস করেন যে তার পাঠানো ব্যুরোফ্যাক্স সঠিক এবং তিনি ফ্রি ট্রান্সফার ফিতে ক্লাব ছাড়তে পারবেন। তবে ম্যানচেস্টার সিটি এবং পিএসজি তাকে পেতে আগ্রহ দেখালেও কেউ এখনো আইনি জটিলতায় যেতে সাহস দেখায়নি।

এদিকে ন্যু ক্যাম্পে বিশ্বাস, বার্তোমেউ হয়তো মেসির ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার বড় কারণ। বার্তোমেউয়ের প্রতিপক্ষরা তার পদত্যাগ চেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের দাবিও উঠেছে। মেসি থাকলে বার্তোমেউ পদত্যাগ করার কথাও বলেছিলেন।

সব মিলে এই মুহূর্তে কেউই অনুমান করতে পারছে না যে কি হতে যাচ্ছে। তবে যে কোনো এক পক্ষকে হয়তো ছাড় দিতেই হবে।

সূত্র: মার্কা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত