ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত এবং খুবই দুঃখজনক।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংগঠনের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির আয়োজনে চিকিৎসকদের মাঝে চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তার (ইউএনও ওয়াহিদা) সুচিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।’ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের শহরে-বন্দরে-রাস্তায়-মার্কেটে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার বালাই নেই। মনে হয় না কেউ করোনাকে পাত্তা দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিজেরাই সেফটি এবং সিকিউরিটি নষ্ট করছি। আমরা সংক্রমণের দুয়ার খুলে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে সচেতনতার দিক থেকে গা-ছাড়া একটা ভাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কম হলেও খুব তাড়াতাড়ি করোনা চলে যাবে এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই। কাজেই সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে আমি আবারও সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এর আগেও চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিক কারণে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ছয় মাসের জন্য। করোনা পরিস্থিতির কারণে তার চিকিৎসা ভালোভাবে করা যায়নি, এ বিবেচনায় তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক চাপের বিষয় নেই। একেবারেই তার বয়সের কথা চিন্তা করে মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
