মহামারীর কারণে লকডাউন শুরু হয়ে গেলে আমেরিকা থেকে তাড়াহুড়ো করে নিজ দেশে চলে যায় একটি অস্ট্রেলিয়ান পরিবার। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণী আমদানি-রপ্তানি আইন খুব কঠোর বলে তাদের পোষা কুকুরটিকে রেখে যেতে হয়। কিন্তু ২ বছর বয়সী ওই কুকুরটিকে ফিরে পেতে ব্যাকুল ছিল পরিবারটি। শুরু হয় ফিরে পাওয়ার লড়াই। আসে সফলতাও। লিখেছেন পরাগ মাঝি
সমুদ্রের বুকে এক প্রমোদতরী
জার্মান ডাকশুন্ড প্রজাতির ছোট্ট কুকুরটির নাম পিপস্কুইক বা পিপ। ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি নৌকায় এক অস্ট্রেলিয়ান পরিবারের সঙ্গে খুনসুটি আর দুষ্টুমি করেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল তার। পরিবারটির ছিল ভ্রমণের নেশা। বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছা থেকে গত চার বছর ধরে নৌকা নিয়ে তারা সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছিলেন। পরিবারের কর্তা পুরুষটির নাম গাই ইলব্যাক। তার স্ত্রীর নাম জয়ি ইলব্যাক। ক্যাম ও ম্যাক্স নামে দুই পুত্রও ছিল তাদের ভ্রমণসঙ্গী।
বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে কভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে ইলব্যাক পরিবারের ভ্রমণ পরিক্রমায় হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে সাউথ ক্যারোলিনার হিলটন হেড দ্বীপে নোঙর ফেলেছিল তাদের নৌকাটি। সীমান্ত বন্ধ হওয়ার আগেই যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তাদের হাতে সময় ছিল মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। তাই যত দ্রুত সম্ভব নৌকা থেকে প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র কয়েকটি ব্যাগে ভরে নেওয়া হয়। বলা যায়, তল্পিতল্পাসহ যা কিছু আছে সবকিছু নিয়েই অস্ট্রেলিয়াগামী প্লেনে চড়ে বসে পরিবারটি। যদিও এ যাত্রায় প্রিয় কুকুরটি তাদের সঙ্গে ছিল না। তাকে রেখে যেতে হয় নর্থ ক্যারোলিনায়। কারণ অস্ট্রেলিয়ার পশু-পাখি আমদানি আইন খুব কঠিন। এ আইন অনুযায়ী, কোনো ডাকশুন্ড কুকুর নিয়ে দেশে প্রবেশের কোনো অনুমতি ছিল না পরিবারটির কাছে।
ইলব্যাক পরিবার ভেবেছিল, শিগগিরই হয়তো পরিস্থিতি বদলে যাবে। আবারও তারা সমুদ্রে ফিরে আসবেন। সাউথ ক্যারোলিনায় তাদের প্রমোদতরীটিও নোঙর করা আছে। তাই কিছুদিনের জন্য পিপস্কুইকের একটি গতি করতে পারলেই হয়।
কুকুরের প্রতি মায়ার বাঁধন
পিপস্কুইক নামের ছোট্ট জার্মান কুকুরটির সঙ্গে ইলব্যাক পরিবারের প্রথম দেখা হয় ২০১৮ সালে সিসিলির বন্দর নগরী মেসিনায়। বাচ্চা বয়সে তাকে কিনে নেয় ইলব্যাক পরিবার। কয়েকদিনের মধ্যেই নৌকার মধ্যে ভাসমান জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে পিপ। নৌকার মধ্যেই বড় হতে থাকে সে। ১৩ বছরের ক্যাম আর ৮ বছর বয়সী ম্যাক্সের সঙ্গে তার দারুণ ভাব জমে ওঠে। ধীরে ধীরে পরিবারটির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয় পিপ।
প্রিয় এই কুকুরটিকে কীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে শুরু থেকেই ভাবছিলেন জয়ি ইলব্যাক। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত আইন বেশ কঠিন। বাইরে থেকে দেশটিতে কোনো প্রাণী নিয়ে যেতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। এক্ষেত্রে ইলব্যাক পরিবারের পরিকল্পনা ছিল কখনো দেশে ফিরে গেলে পিপকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতু দ্বীপে নিয়ে রাখা হবে। কারণ সিডনি থেকে দ্বীপটির অবস্থান খুব কাছেই। কিন্তু চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তাদের ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আর কোনো উপায় ছিল না। লকডাউনের কারণে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য পরিবারটির হাতে খুব কম সময় ছিল। এ অবস্থায় তাদের প্রমোদতরী ও পিপস্কুইককে সাউথ ক্যারোলিনার নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পরে সিডনিগামী বিমানে ওঠার আগে গত ২৭ মার্চ একটি গাড়ি ভাড়া করে পিপকে নিয়ে সাউথ ক্যারোলিনা থেকে নর্থ ক্যারোলিনায় ছুটে যায় পরিবারটি। সেখানে লিন উইলিয়ামস নামে জয়ি ইলব্যাকের এক বন্ধু ছিলেন। এই নারীর একটি বাইসন খামার ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো- তার খামারে আগে থেকেই আরও দুটি কুকুর ছিল। ফলে সেখানে পিপকে বেশিদিন রাখার কোনো উপায় ছিল না। কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পিপকে কিছুদিন নিজের জিম্মায় রাখতে পারবে এমন একজন সহৃদয়বান ব্যক্তির খোঁজ করা হয় ওই বিজ্ঞাপনে।
নর্থ ক্যারোলিনার অস্থায়ী নিবাস
বিজ্ঞাপন দেখে তিনজন ব্যক্তি সাড়া দিয়েছিলেন। নর্থ ক্যারোলিনার হিলসবোরোতে বসবাসকারী ইলেন স্টেইনবার্গ ছিলেন তাদের একজন। শেষ পর্যন্ত এই নারীর কাছেই পিপস্কুইককে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ইলব্যাক পরিবার ঠিক কী কারণে কুকুরটিকে অন্যের কাছে জিম্মায় রাখছে বিজ্ঞাপনে তা বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় শুরুর দিকে ইলেন স্টেইনবার্গ কিছুটা বিরক্তই ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, কুকুরটির ক্ষেত্রে অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবারটি। কিন্তু জয়ি ইলব্যাকের সঙ্গে কথা বলার পর তার চিন্তায় পরিবর্তন আসে। কুকুরটির প্রতি ইলব্যাক পরিবারের ভালোবাসা দেখে আপ্লুত হয়ে যান ইলেন নিজেই। তিনি সানন্দে কুকুরটিকে নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ইলেনের কাছে পিপকে রেখে অস্ট্রেলিয়ায় উড়ে যায় ইলব্যাক পরিবার।
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছার পর থেকেই পিপকে কীভাবে নিজেদের দেশে নেওয়া যায় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন জয়ি আর তার সন্তানরা। এজন্য তাদের বহু জায়গায় দৌড়াতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় অসংখ্য কাগজপত্র জড়ো করতে গিয়ে তারা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ছুটেছেন অবিরাম। আমেরিকা থেকে একটি কুকুরকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। একদিকে পিপকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল, অন্যদিকে ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রতিদিনই পিপের খোঁজখবর নিচ্ছিল পরিবারটি। কিন্তু অনেক চেষ্টার পর দেখা যায়- এই মহামারীর সময়ে পিপকে আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া কিছুতেই সম্ভব নয়। তাছাড়া এত দূরের পথ পাড়ি দেওয়া একটি কুকুরের জন্য খুব কঠিন।
শুরু হলো দীর্ঘ প্রক্রিয়া
একটি কুকুরকে আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে কত ঝামেলা পোহাতে হয় তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ইলব্যাক পরিবার। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আবার মহামারী সংক্রান্ত জটিলতা। জয়ি বলেন, ‘আমেরিকা থেকে একটি কুকুরকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাতে হলে অবশ্যই মার্কিন কর্র্তৃপক্ষের একটি ছাড়পত্র লাগবে যেখানে উল্লেখ থাকবে- কুকুরটি পুরোপুরি সুস্থ ও জলাতঙ্ক বিষয়ক সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।’
আমেরিকায় এ ধরনের ছাড়পত্র দেওয়া হয় শুধু নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি সংস্থা থেকে। কিন্তু মহামারীর তীব্র সংক্রমণের কারণে নিউ ইয়র্কের ওই সংস্থাটি তখন বন্ধ ছিল। ফলে মার্কিন ছাড়পত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পিপ যার আশ্রয়ে ছিল সেই ইলেন স্টেইনবার্গ স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের কাছ থেকে রক্ত পরীক্ষাসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখলেও এগুলো কোনো কাজেই আসছিল না। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান পতাকাবাহী বিমান সংস্থা কান্তাস থেকে ইতিপূর্বে আমদানি অনুমোদন পেলেও শেষ পর্যন্ত সংস্থাটি জানিয়ে দেয় মহামারীর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা কিছুতেই বিমানে একটি কুকুরকে বহন করবে না।
বিকল্প একটি উপায়
অনেক পথ হেঁটে বিফল হওয়ার পর জয়ি ইলব্যাক পিপস্কুইককে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে আরেকটি উপায় আবিষ্কার করেন। জয়ি দেখলেন, পিপকে তারা নিউজিল্যান্ড থেকে সহজেই অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার অনুমতি পাবেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই কুকুরটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস নিয়ে যেতে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে সরাসরি বিমান চালু আছে। ‘জেটপ্যাট’ নামে একটি সংস্থা কুকুরটিকে আনা-নেওয়ায় সাহায্য করতে পারবে।
এই সময়ের মধ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় কেটে গেছে। পিপকে যিনি নিজের আশ্রয়ে রেখেছিলেন সেই ইলেন স্টেইনবার্গ তার মাকে দেখার জন্য পরিবারের কাছে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিনসবোরোতে বসবাস করা তার বন্ধু স্টেসি গ্রিনের কাছে রেখে যান কুকুরটিকে। ছোট্ট কুকুরটিকে স্টেসির দারুণ পছন্দ হয়। স্টেসি কুকুরটিকে ফেরত দেবেন কি-না সেই শঙ্কাও ছিল জয়ি ইলব্যাকের। তবে, এ সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা না হলেও, সমস্যা বাধে পিপকে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। এই রুটে চলাচলকারী কোনো বিমানই পিপকে বহন করতে রাজি হচ্ছিল না। কারণ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বিমানগুলো বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালিকবিহীন কোনো পশুপাখি বহন করে না। বছরের এই সময়টিতে তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণেই এই নিয়মটি মেনে চলা হয়। তবে, পশুপাখিদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি উপস্থিত থাকলে কোনো সমস্যা থাকে না।
কোনো উপায় না দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবার একটি পোস্ট দেন জয়ি। ওই পোস্টে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাচ্ছেন এমন একজনের খোঁজ করেন তিনি। তার এ আহ্বানে সাড়া দেন মেলিসা ইয়াং। অসহায় কুকুরদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এই নারী। নির্ধারিত কোনো ভ্রমণ শিডিউল না থাকলেও তিনি পিপকে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখান। তিনি বসবাস করেন নর্থ ক্যারোলিনার শার্লোত্তে শহরে। তাই গত ২১ জুলাই পিপকে গ্রিনসবরো থেকে শার্লোত্তে নিয়ে যান তিনি। পরদিনই সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী বিমানে চড়ে বসেন।
আমেরিকা-নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া
লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছে পিপকে ‘জেটপ্যাট’ নামক সংস্থাটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে রেখেছিল জেটপ্যাট কর্র্তৃপক্ষ। অকল্যান্ডের উদ্দেশে পিপকে বহন করা বিমানটি যখন লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে যাত্রা শুরু করে, ইলব্যাক পরিবারের সদস্যরা তখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিমানটির প্রতি মুহূর্তের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ রাখছিলেন।
২৩ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে পা রাখে পিপ। একরাত কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর তাকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নগামী একটি বিমানে তুলে দেওয়া হয়। মেলবোর্নে পৌঁছানোর পর তাকে ১০ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে নিয়ে যাওয়া সব প্রাণীর জন্য ১০ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
৩ আগস্ট সিডনিতে যাওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়টিতে মহামারীর কারণে অস্ট্রেলিয়ার এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। তবে, জয়ি ইলব্যাকের ভাই রব মেলবোর্নেই থাকেন। তাই কয়েক দিনের জন্য পিপকে তিনি তার সঙ্গে রাখেন। পরে মেলবোর্ন থেকে সিডনি পর্যন্ত অন্তত চারটি বিমানে পিপের যাত্রা বুকিং করা হলেও সবগুলোই বাতিল হয়ে যায়। তবে আমেরিকা থেকে তার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পৌঁছানোর কাহিনী ততদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। তার এই মহাকাব্যিক যাত্রা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকা। এ অবস্থায় পিপকে মেলবোর্ন থেকে সিডনিতে তার মালিক পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এগিয়ে আসে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া বিমান সংস্থা।
নতুন শুরু
১১ আগস্ট ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার বিমানে চড়ে সিডনিতে গিয়ে পৌঁছায় পিপ। ইলব্যাক পরিবার তাকে শেষ দেখেছিল পাঁচ মাস আগে। পিপকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ওই পরিবারের সবাই। আবেগঘন এই পুনর্মিলনের সাক্ষী হতে বিমানবন্দরে অসংখ্য কৌতূহলীসহ উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকরাও।
নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে জয়ি বলেন, ‘আমাদের ভয় ছিল দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির জন্য পিপ হয়তো আমাদের চিনতেই পারবে না।’
পিপের জন্য সুস্বাদু সব খাবার নিয়ে অপেক্ষায় ছিল ইলব্যাক পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ দুই সদস্য ক্যাম আর ম্যাক্স। বিমানবন্দরে তাদের দেখামাত্রই দৌড়ে এসে লাফিয়ে একেবারে কোলের ওপর উঠে যায় ছোট্ট কুকুরটি। অস্ট্রেলিয়ান পরিবারটি বিশ্বভ্রমণে পিপকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী মনে করে। অতীতের কথা স্মরণ করে জয়ি বলেন, ‘নৌকায় থাকা অবস্থায় আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমাদের দলে সে একজন গুরুত্বপূর্ণ নাবিক।’
বর্তমানে সিডনির উত্তর উপকূলের স্কটল্যান্ড আইল্যান্ডে বাস করছে ইলব্যাক পরিবার। স্থানীয় একটি স্কুলে ক্লাসও শুরু করেছে ক্যাম আর ম্যাক্স। দ্বীপ থেকে মূল ভূমিতে যাতায়াতের জন্য তাদের অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি একটি নৌকা রয়েছে। এই নৌকাটিও পিপের দারুণ পছন্দ। কুকুর হলেও নাবিকের জীবন তার শৈশব থেকেই।
