ডেবেনহ্যামসের আইনবহির্ভূত শ্রমিক ছাঁটাই

সরকার ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহায়তা চান চাকরিচ্যুতরা

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ এএম

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ডেবেনহ্যামসের বিরুদ্ধে আইন না মেনে বাংলাদেশের লিয়াজোঁ অফিস থেকে ৬৯ কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ করেছেন এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লিয়াজোঁ অফিস পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরবরাহকারী ও ভেন্ডররা কর্মীদের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে মামলা করছে। এসব থেকে পরিত্রাণ ও ন্যায্য পাওনা পেতে সরকার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহায়তা চেয়েছেন তারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডেবেনহ্যামসের বাংলাদেশে লিয়াজোঁ অফিসের সাবেক কর্মকর্তাদের সংগঠন ডেবেনহ্যামস বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (ডিবিইইউ) এসব অভিযোগ করে। সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ তানভির। এ সময় চাকরিচ্যুতরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডেবেনহ্যামসহ প্রায় ডজনখানেক বিদেশি বায়িং হাউজ করোনায় শ্রমিক ছাঁটাই/অফিস বন্ধ করে দেয়। এরা কেউই আমাদের সদস্য না। দেশের বিদ্যমান আইনে বিদেশি বায়িং হাউজগুলোর নিরাপত্তা তহবিলের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে আমরা গত ১১ মে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিডা) ও ১৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। আমরা এসব বায়িং হাউজের বিষয়ে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিইইউ সভাপতি বাহাউদ্দিন মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, ‘ডেবেনহ্যামস বাংলাদেশের লিয়াজোঁ অফিসের মাধ্যমে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। করোনার মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল তারা বাংলাদেশের ৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করে চাকরিচ্যুত করে। একইসঙ্গে তারা তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ঘোষণা দেয়। তাদের কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশে রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।

তিনি বলেন, ‘বিডার নিয়ম অনুসারে লিয়াজোঁ অফিস বন্ধে কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বন্ধের জন্য কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ, অফিস বন্ধের বিষয়টি একটি সর্বাধিক প্রচলিত সংবাদপত্রে কমপক্ষে তিন মাস আগে প্রকাশ করা, লিয়াজোঁ অফিস বন্ধ করার জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে একটি বোর্ড রেজুলেশন দেখানোর কথা। কিন্তু এসব না মানায় বাংলাদেশের সরবরাহকারী ও ভেন্ডররা এখন আমাদের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে মামলা করে রেখেছে। ফলে আমরা একদিকে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছি, পাশাপাশি সামাজিক ও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ও রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিডা, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সদয় দৃষ্টি ও সহানুভূতি কামনা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত