কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ৪০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নোয়াখালীর ভাসানচরে গেছেন, যেখানে তাদের জন্য সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করেছে।
গতকাল শনিবার ভোরে দুটি বাসে করে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উখিয়ার ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে চট্টগ্রামে যান। সেখান থেকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জলযানে ভাসানচরে পৌঁছান তারা। কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার জানান, প্রতিটি ক্যাম্প থেকে নির্বাচিত দুই নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার ভাসানচর থেকে তাদের কক্সবাজার শরণার্থী ক্যাম্পে ফিরে আসার কথা রয়েছে। ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে এবং দ্বীপটি বসবাসের জন্য কতটুকু প্রস্তুত, তা সরেজমিন দেখবেন এসব নেতা।
কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার বিরান দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এজন্য নিজস্ব অর্থায়নে সেখানে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছে সরকার।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ভাসানচর সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের মাঝে ধারণা দিতেই ‘গো অ্যান্ড সি’ ভিজিটের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বলবেন ও তাদের জীবনমান পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর ভাসানচর থেকে ফিরে তারা কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ণ প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দেবেন।
