আমদানি-রপ্তানি বন্ধের হুমকি ভারতীয় ট্রাকচালকদের

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০৮ এএম

বেনাপোল বন্দরে পণ্য রক্ষণাবেক্ষণে বেহাল দশা, পণ্য খালাস ও পরীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে জটিলতাসহ নানা অব্যবস্থাপনায় স্থবির হয়ে পড়েছে বাণিজ্যক কার্যক্রম। এ নিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আগেই। এখন আমদানি-রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা।

গতকাল সোমবার হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন।

বন্দরে জায়গার অভাবে দিনের পর দিন পণ্য নিয়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় বড় লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে আমদানি পণ্যে। বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ জানিয়ে ভারতের পেট্রাপোলের বনগাঁ মোটরশ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন আলটিমেটাম দিয়ে বলেছে, দ্রুত অব্যবস্থানার স্থায়ী সমাধান না হলে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেবেন।

সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, বন্দরের জায়গার অভাব আর খালাসের যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় তারা সময়মতো পণ্য নিতে পারছেন না। দিনের পর দিন খালাসের অপেক্ষায় ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় আমদানি খরচ বাড়ছে। সন্তোষজনক সমাধানের মাধ্যমে বাণিজ্য সচল রাখতে আলোচনা চলছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ভারতীয়রা বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ পথে বাণিজ্য বন্ধের যে হুমকি দিয়েছেন তার যৌক্তিকতা আছে। উন্নয়ন নিয়ে বেনাপোল বন্দরের কোনো মাথাব্যথা নেই। বন্দরের ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার টন হলেও পণ্য থাকে সব সময় ২ লাখ টন।

অবহেলা অযতেœ এসব পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে। বারবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে বেনাপোল বন্দরকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন থেকে সরিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট এমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, উন্নয়ন বাড়াতে হলে বন্দরকে নৌপরিবহনের অধীন থেকে সরিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিতে হবে। যা এরই মধ্যে ভারত সরকার  পেট্রাপোল বন্দরে করেছেন।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আবদুল জলিল বলেন, ইতিমধ্যে বন্দরের বেশ কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন জমি অধিগ্রহণ, পণ্যাগার বাড়ানো, চুরি রোধে সিসি ক্যামেরা বসানো ও বন্দরের চারপাশে প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত