লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগ সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কমিশনের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। এ ছাড়া একই বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ হোসেনকেও দুদকে তলব করা হয়েছে। কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, সাংসদ পাপুলের অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গতকাল বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ কে এম সালাউদ্দিন টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ও পাপুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিবিদ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। পাপুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও জানান দুদক কর্মকর্তারা।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মো. জামশেদ কবির ওরফে বাকী বিল্লাহ ও নুর উদ্দীন চৌধুরী নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে। এ ছাড়া পাপুলের অর্থ পাচার, মানব পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ সেলিনা ইসলাম এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকে গত ২২ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাপুল ষড়যন্ত্রের শিকার বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন সেলিনা ইসলাম।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ অর্জন করে বিদেশে পাচারসহ শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এরই মধ্যে অনুসন্ধানের স্বার্থে পাপুল পরিবারের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।
গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে পাপুলকে গ্রেপ্তার করে দেশটির সিআইডি। এরপর থেকে তিনি সেখানকার কারাগারে আছেন।
