আইন সংশোধন

ইসি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে : ফখরুল

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২৯ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী আইন সংশোধনের নামে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিধ্বস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করছে। ২০১৪ সালে ইসি রাজনৈতিক দলবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে করেছে ভোটারবিহীন ‘নৈশ’ নির্বাচন। প্রস্তাবিত আরপিওর মাধ্যমে আগামীতে করবে ইসিবিহীন প্রহসনের নির্বাচন। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনী আইন সংশোধনে কমিশনের উদ্যোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি-না এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইনের দ্বারস্থ তখনই হওয়া যাবে, যখন আইন থাকবে দেশে, যখন বিচার পাওয়া যাবে দেশে। আমি কী বিচার পাচ্ছি বিচারালয়গুলোতে?’

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক পথেই সরকার পরিবর্তনে আমরা বিশ্বাসী। এটার কারণে আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা আমাদের আন্দোলনের অংশ, পার্ট অব দ্য মুভমেন্ট।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দলের ন্যূনতম শ্রদ্ধা কিংবা আস্থা নেই। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যারা গলা টিপে হত্যা করেছে কেবলমাত্র তারা এবং তাদের সহযোগী হিসেবে নির্লজ্জ ভূমিকা রাখা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বশংবদ ইসিই দায়ী।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, রকিব উদ্দিন কমিশন থেকে শুরু করে গত ১০ বছরে কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস ও অকার্যকর করে দিয়েছে। সর্বশেষ কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন তাদের তিন বছর মেয়াদকালে একটিও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেনি। এই অবস্থায় তারা নির্বাচনী আইন সংশোধনের নামে বিধ্বস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।’

রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০ প্রণয়ন, নির্বাচনী আইন (আরপিও) সংশোধনী প্রস্তাব এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবি পরিবর্তনের বিষযে তিনি বলেন, ‘ইসির উদ্যোগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আরপিও সংশোধনের প্রস্তাবে যেসব বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে তার অন্যতম হলো কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক ভোটগ্রহণ বন্ধ করা, সর্বোপরি আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের (৯১ ই ধারা) ক্ষমতা রোধ। এসব ক্ষমতা রোধ করলে কমিশন একটি ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হবে, যার মাধ্যমে কার স্বার্থ সিদ্ধি হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

সমালোচনার মুখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) নাম পরিবর্তন এবং প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবনা  থেকে পিছু হটার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারপরও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। কারণ এই কমিশনের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা  নেই। তারা কারসাজিতে যুক্ত আছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তাদের অতীত কর্মকা-ে বরং এটি স্পষ্ট যে, ইসি সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নেই তৎপর রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত