৯ তলা থেকে পড়ে সাবেক এমপির ব্যারিস্টার ছেলের মৃত্যু

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০০ এএম

রাজধানীর কাঁঠালবাগানে শ্বশুরবাড়ির ৯তলার বারান্দা থেকে পড়ে ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ছিলেন ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ১৬৩ নম্বর বাসার নিচ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জিসাদের বাবা আইনজীবী শহিদুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের (বেলকুচি-কামারখন্দ) জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ। তিনি বলছেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে জিসাদকে হত্যা করেছে। আর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি, জিসাদ নিজেই লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত জিসাদের শ্যালক সাইমন শাহিদ নিশাদ জানান, চার বছর আগে জিসাদ তার বড় বোন সাবরিনা শাহিদ নিশিতার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। জিসাদের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। তাই জিসাদ কাঁঠালবাগানে শ^শুরবাড়িতেই থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই।

নিশাদ বলেন, জিসাদ ও সাবরিনার মধ্যে মাঝেমধ্যেই দাম্পত্য কলহ দেখা দিত। জিসাদ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় চার মাস চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর একপর্যায়ে ৯তলার বারান্দা থেকে রেলিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েন জিসাদ। খবর পেয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে জিসাদের বাবা আইনজীবী শহিদুল ইসলাম খান বলছেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে তার ছেলেকে হত্যা করেছে। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলে তার শ্বশুরের নিজ বাড়ির ৯তলার ফ্ল্যাটে থাকত। স্ত্রী সাবরিনা শহীদের সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। কাজেই সন্দেহ করছি, তাকে ৯তলার ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ফেনীর বাসিন্দা অ্যাডভোকেট এস এম শহীদুল্লার মেয়ে সাবরিনা শহীদের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই এলএলবি পাস সাবরিনা শহীদের সঙ্গে আমার ছেলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল বলে জানি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।’

জিসাদ স্ুিপ্রম কোর্টে প্র্যাকটিসের পাশাপাশি মতিঝিলে দেশ ট্রেডিং করপোরেশনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন জানিয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল ভোরের দিকে তার (জিসাদ) শ^শুরবাড়ির লোকজনই ফোন করে জানায় যে জিসাদের অবস্থা ভালো নয়। তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে জিসাদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। আমাদের সন্দেহ জিসাদকে মেরে ফেলা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করতে পারে না।’

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা শহিদুল ইসলাম খান থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আশা করছি, শিগগিরই প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে পারব।’

জিসাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বাগবাড়িতে। তার বাবা শহিদুল ইসলাম ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-কামারখন্দ) আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ ছিলেন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তার পরিবার মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের সি-ব্লকে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত