দুই শিশুর ধাক্কাধাক্কি

ছেলের পক্ষ নিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুকে পেটালেন শিক্ষক

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০৩ এএম

স্কুলশিক্ষকের আট বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির জের ধরে মাদ্রাসাছাত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে পিটিয়ে আহত করেছেন শিক্ষক হুমায়ুন কবির (৪৫)। মারধরের শিকার ছাত্রের নাম সাকিব আহমেদ (১৪)। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ীর আটরাই ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মারধরের শিকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাকিব আটরাই ডাঙ্গা গ্রামের রমনা আহমেদের ছেলে ও স্থানীয় চকবোলিয়া এস দ্বিমুখী মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষক হুমায়ুন কবির এলাকার নুরুল হুদা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে যা-তা করেন। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস করেন না। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই।

স্থানীয়রা জানান, স্কুলশিক্ষক হুমায়ুন কবিরের ছেলে জিসানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে খেলার সময় সাকিবের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন শিক্ষক। পরে সাকিবকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে মাদ্রাসা সড়কে কাঁচা বাঁশের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর ও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারেন তিনি। এ সময় হুমায়ুনের ভাতিজা সৌরভও আরেক দফা সাকিবকে মারধর করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

মারধরের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক হুমায়ুন সাকিবের পরিবারকে হুমকি দেন। পরে দাদিকে নিয়ে সে লালমনিরহাটের বড়খাতা গ্রামে নানাবাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়। সরেজমিন আটরাই ডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাকিবের বাড়ির দরজায় তালা ঝুলছে। বাবা আগে থেকেই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। কয়েক দিন আগে মা বাবার বাড়ি বেড়াতে যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামের বাসিন্দা ইকতিয়ার হক (৫২) ও আলাউদ্দিন ম-ল (৫৫) বলেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের প্রথম নয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। তা না হলে খেলার সময় দুই বাচ্চার ঝগড়াকে কেন্দ্র করে কোনো সুস্থ মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে এভাবে মারতে পারেন! তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও সাকিব এলাকায় খারাপ ছেলে। দোষ-ত্রুটি পাওয়ায় আমি তাকে শাসন করেছি। কিন্তু একটি মহল ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত