ভালো নেই ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:১১ এএম

করোনা সংকটের মধ্যে দোকানপাট চালু হলেও জমে ওঠেনি রাজধানীর ইসলামপুরে কাপড় বেচাকেনা। সারা বছর বেচাকেনা কম থাকলেও ঈদের সময়ে তা পুষিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবার করোনার কারণে ঈদ দেখতে দেখতে চলে গেছে। বসে থেকে থেকে পুঁজিতেই টান পড়েছে ব্যবসায়ীদের। কেউ বাধ্য হয়ে বন্ধ করেছে দিয়েছে দোকান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে বেচাকেনা নেই। কোনো কোনো দোকানে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করলেও বিক্রি নেই। তাছাড়া বন্ধ রয়েছে অনেক মার্কেটের দোকান। ইসলামপুরের একরাম উদ্দীন প্লাজার সভাপতি ও আশা ম্যাচিং কর্নারের মালিক মো. আদিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীরা খুব খারাপ সময় পার করছেন। অনেক দোকানপাট বন্ধ। যাদের ৮-১০টি দোকান ছিল, তারা এখন দুটি চালাচ্ছেন। আর যারা একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন, তাদের বেশিরভাগই পুঁজি না থাকায় ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই আবার বন্ধ করে দিয়েছেন।

আবদুল সাত্তার নামে এক ব্যবসায়ী জানান, করোনার জন্য মানুষ বেশি দামের পণ্য ব্যবহার করছে না। যার প্রভাব পড়েছে ইসলামপুরের বাজারে। ব্যবসায়ীদের কাছে আগের মতো মূলধন নেই। আগের দামি পণ্যগুলো এখনো রয়ে গেছে।

মো. সমির নামে আরেক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই খারাপ সময়ে এখানকার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াননি। দোকানপাট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সব ভাড়া দিতে হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এই ইসলামপুরে ব্যবসা করে আসছি। করোনার জন্য মার্কেটে অনেক টাকা লস হয়ে গেছে। পাওনাদাররা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। যে মার্কেটে দোকান ছিল, সেখানে যেতে পারছি না। সামনের মাসে অন্য মার্কেটের একটি দোকানে কাজে লাগা ছাড়া উপায় নেই।’

ইসলামপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দীন মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইসলামপুরের অবস্থা আগের মতো নেই। এখানে কাপড়ের ব্যবসা দুই ভাগ হয়ে গেছে। ঢাকার আশপাশে কয়েক জায়গায় এখন পাইকারি বাজার বসছে। ব্যবসা খারাপ হয়ে গেছে তাও বলা যাবে না। তবে আগের মতো জমজমাট নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার জন্য ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এত খারাপ অবস্থার মধ্যেও ইসলামপুরে কাপড় বিক্রিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই চাপ। এই ভ্যাট প্রত্যাহার করা দরকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত