জীবনস্মৃতি লিখছেন আবদুল হাদী

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৮ পিএম

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকেই অনেকের মতো প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদীও ঘরবন্দি সময় কাটাচ্ছেন। এ অবসরে লেখালেখিতে মন দিয়েছেন। গান-কবিতা নয়, জীবনের স্মৃতি তিনি বইয়ের পাতায় তুলে ধরছেন ভক্তদের জন্য। তবে সেটিকে তিনি আত্মজীবনী বলতে চান না। বললেন, ‘নাম চূড়ান্ত না করলেও বইটি লেখার কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। আগামী একুশের গ্রন্থমেলা যদি অনুষ্ঠিত হয় তাহলে তখন প্রকাশ হবে বইটি।’ সৈয়দ আবদুল হাদী আরও বলেন, ‘আমি মূলত গানের মানুষ। গানসংশিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। যেহেতু গানের কাজ করছি না, তাই জীবনের স্মৃতি লেখায় মনোনিবেশ করেছি। এতে আমার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সংগীত জীবনের নানা দিক তুলে আনার চেষ্টা করছি। সংরক্ষণের অভাবে সংগীত জীবনের অনেক অর্জন হয়তো এ বইয়ে ঠাঁই পাবে না। তারপরও সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে বইটি লিখছি।’

এ বইয়ে তার জীবনের যেখান থেকে মনে আছে সেখান থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো উঠে আসবে।

এদিকে দীর্ঘদিন ঘরের মধ্যে থাকলেও এখন প্রয়োজনীয় কাজে বের হচ্ছেন আবদুল হাদী। গতকাল যখন কথা হচ্ছিল তখনো তিনি বাইরেই ছিলেন। বললেন, ‘এখন বের হচ্ছি ঠিকই, কিন্তু যেখানে অল্প জায়গায় অনেক মানুষের আনাগোনা সেসব জায়গা এড়িয়ে চলছি। খোলামেলা জায়গা হলে সর্বোচ্চ সাবধানতা মেনে যাতায়াত করছি।’

এ বছরের মাঝামাঝিতে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের সঙ্গে ডুয়েট গানে কণ্ঠ দেন আবদুল হাদী। তাতে তুলে ধরা হয়েছে বাবা ও ছেলের সম্পর্কের গভীরতা, হৃদয়ের টান, দায়িত্ববোধ ও আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ। গানের শিরোনাম ‘বাবা ছেলের টান’। সুহৃদ সুফিয়ানের কথায় গানের সুর করেছেন কিশোর দাস। সুরকারের সঙ্গে যৌথভাবে গানের সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশের পর দারুণ সাড়া দেয় দর্শক। এরপর আর কোনো গান করেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনায় নতুন গান করার প্রশ্নই আসে না। তবে এখন লকডাউন শিথিল হওয়ায় সিনেমার গানের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু সবিনয়ে না করে দিয়েছি। কারণ এখন স্টুডিওকে আমার ভালো ঠেকছে না। ছোট্ট জায়গায় অনেকগুলো লোক মিলিত হতে হবে। যেটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে গানে কণ্ঠ না দিলেও নিজের চর্চা নিজের মতোই অব্যাহত আছে। শিল্পীর প্রধান কাজই হলো নিজের কণ্ঠকে চর্চার মাধ্যমে সজীব রাখা।’

সম্প্রতি দেশের সংগীতাঙ্গনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সমন্বিত হয়ে ‘কণ্ঠশিল্পী পরিষদ বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন করেছেন। যারা শিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করতে চান। এ বিষয়ে সৈয়দ আবদুল হাদীর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যেকোনো ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চাই। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য খুব ভালো, তাই আমি তাদের শতভাগ সহযোগিতা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এ ধরনের সংগঠনের কার্যকারিতা বা সফলতা সম্পর্কে আগাম কোনো মন্তব্য আমি করতে পারব না। কারণ সত্তরের দশকে আমি নিজেই অনেক গুরুত্বের সঙ্গে এমন একটি সংগঠন করি। খুব পরিশ্রম আর সততা দিয়েই কাজ করছিলাম। কিন্তু তারপরও সেই সংগঠনকে আমি পাঁচ বছরের বেশি জীবিত রাখতে পারিনি। এর পেছনে নানা কারণ ছিল। তাই সংগঠন নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত