সভাপতি-সম্পাদক দ্বন্দ্বে বিলম্বিত জেলা কমিটি

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০৫ এএম

জেলা কমিটি নিয়ে বিপাকে পড়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে আসছে না। অনেক জেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতের অমিলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কমিটিতে কাকে রেখে কাকে বাদ দেবেন এ নিয়ে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এছাড়া বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে না রাখার পাশাপাশি মন্ত্রী-এমপির পছন্দের ব্যক্তিকে রাখার চাপও রয়েছে। তাই সময় বেঁধে দেওয়ার পরও কমিটি জমা পড়ছে না কেন্দ্রে।

আওয়ামী লীগের ৩১টি জেলায় সম্মেলন হয়েছে প্রায় পৌনে এক বছরেরও বেশি সময় আগে। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্য, সম্মেলনে নির্বাচিত জেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতভেদের কারণেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা পড়তে দেরি হচ্ছে। ফলে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শেষ হওয়ার এক বছর পরও জেলা কমিটি চলছে শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দিয়েই।

তারা আরও বলেন, সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় জেলা কমিটিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত জেলার নেতাদের কমিটি জমা দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে জেলার নেতাদের পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় জমার তারিখ আবার বাড়ানো হয়েছে চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত।  

জানা গেছে, বেশ কয়েকটি জেলা থেকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধের কারণে দুটি কমিটি নিয়ে ঢাকায় আসছেন জেলার নেতারা। অবশ্য যেসব জেলা থেকে দুটি কমিটি নিয়ে আসা হচ্ছে সেসব কমিটি জমা নিচ্ছে না আওয়ামী লীগের দপ্তর। সেখান থেকে দলীয় অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এক হয়ে একটি কমিটিই কেবল কেন্দ্র জমা নেবে। 

দপ্তরের নেতারা জানিয়েছেন,  গত ২ এপ্রিলের পর কমিটি জমা দিতে জেলার নেতাদের বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও সাড়া মিলছে না। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৩১ জেলার মধ্যে ১৪টির কমিটি জমা পড়েছে। এর মধ্যে চারটি কমিটি ছিল আগের জমা দেওয়া। সেই চার জেলা হলো কুষ্টিয়া, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। অর্থাৎ নতুন বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ১০টি কমিটি জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট, সিলেট মহানগর, ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম উত্তর, ঢাকা উত্তর, কুমিল্লা উত্তরের কমিটি।

কমিটি কেন জমা দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাচাই-বাছাইয়ে নানা জটিলতা দেখা দেওয়ায় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে কেন্দ্রে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিতর্কিত নেতা বাদ দেওয়া, আবার নেতা বানানোর নানাবিধ তদবির এগুলো ঠিকঠাক করেই তো কমিটি জমা দিতে হবে। সে কারণেও দেরি হচ্ছে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে।’

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমানউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এখনো একমত হতে পারিনি বলে কমিটি জমা দিতে দেরি হচ্ছে। শিগগিরই দুজন বসে একমত হয়ে কমিটি জমা দেব।’

গত বছর ২৬ অক্টোবর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩১ জেলায় সম্মেলন করেছে আওয়ামী লীগ। জেলাগুলো হলো ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রংপুর, রংপুর মহানগর, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, পটুয়াখালী, নড়াইল, সিলেট, সিলেট মহানগর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, চট্টগ্রাম উত্তর, বরিশাল মহানগর, রাজশাহী, রাজশাহী মহানগর, বাগেরহাট, কুমিল্লা উত্তর, খুলনা, খুলনা মহানগর, হবিগঞ্জ, লালমনিরহাট, সাতক্ষীরা, কুড়িগ্রাম, ঝালকাঠি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

এরপর ২ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা কমিটিগুলো শিগগিরই শেষ করার নির্দেশ দেন। এরপর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্মেলন হওয়া জেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে তাগাদা দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আশা করছি সঠিক সময়ের মধ্যে জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা পড়ে যাবে। যেসব কমিটি এখনো জমা হয়নি আমরা সেসব জেলায় কমিটি জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’            

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত