স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলোচিত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) আবজাল হোসেন তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদসহ নানা তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছেন। রিমান্ডেও তিনি অনেক তথ্যই দিয়েছেন যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। গতকাল সোমবার ছিল আবজালের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আদালতের আদেশে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পর গত রবিবার আবজালকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুদকে নিয়ে আসা হয়। ওইদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল। পরে রাতে তাকে রাখা হয় রমনা থানা হাজতে।
গতকাল দুদক সচিব দিলওয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের আদেশে রিমান্ড পাওয়ার পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। তিনি এতদিন কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন, তার স্ত্রী ও দুদকের মামলার আসামি রুবিনা ইসলাম কোথায় এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছি।’
সচিব আরও বলেন, ‘আবজালের স্ত্রী রুবিনা কোথায় আছেন সেটা জানা ও রুবিনাকে গ্রেপ্তারের জন্য দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদ থেকে গত ১৪ জানুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয় আবজালকে। প্রায় দেড় বছর লাপাত্তা থাকার পর গত ২৬ আগস্ট সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আবজাল আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন।
