চট্টগ্রামে অর্থাভাবে বন্ধ আইসোলেশন সেন্টার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:২৮ এএম

চট্টগ্রামে প্রতিদিনই করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত সোমবারও শনাক্ত হয় ৭৩ জন। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে যখন করোনা পজিটিভ রোগী হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল কিংবা উপসর্গ  নিয়ে আসা রোগীদের ছুঁয়ে দেখা হচ্ছিল না, তখন কয়েকজন তরুণ আইসোলেশন সেন্টার চালু করে। এখন অর্থাভাবে সেই আইসোলেশন সেন্টারটিও বন্ধ হলো।  

গতকাল মঙ্গলবার নগরীর হালিশহরে অবস্থিত ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত ১৩ জুন নগরীর হালিশহর ওয়াপদা মোড়ে প্রিন্স অব চিটাগাং নামক কমিউনিটি সেন্টারে আইসোলেশন সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করেন নগর ছাত্রলীগের বর্তমান-সাবেক নেতাকর্মীরা।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্থাপিত দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায়।

হালিশহরের করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমাদের সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার মালিকের তিন মাস ব্যবহার করার চুক্তি ছিল। এছাড়া সেন্টারটি সম্পূর্ণ অনুদানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছিল। এখন অর্থের সীমাবদ্ধতা যেমন আছে তেমনি চুক্তির সময়ও শেষ। সব মিলিয়ে রোগী থাকার পরও বন্ধ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুরুর দিন থেকে এ পর্যন্ত ৭৬৫ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত এবং উপসর্গধারীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। অনুদানের টাকায় চিকিৎসক নার্সদের বেতন দেওয়া হতো।

উল্লেখ্য, বেসরকারি আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং খাবার দেওয়া হতো। ১২ জন চিকিৎসক, ৯ জন নার্স এবং ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমেই রোগীদের সেবা দেওয়া হতো। অনুদানের টাকায় চিকিৎসক-নার্সদের বেতনও দেওয়া হতো। 

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেন্টারটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। এতে উদ্যোক্তারা আয়ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরে। আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান সমন্বয়ক নুরুল আজিম রনি সমাপনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবিরসহ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত