প্রত্যেকটা দেশজ উদ্ভিদ প্রাণী সংরক্ষণ করা হবে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১১ এএম

দেশজ প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া একটি প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশজ উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল সভায় মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শিরোনামে প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ঝিনুক সংরক্ষণেও তাগাদা দিয়েছেন তিনি। সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, দেশজ যা কিছু আছে উদ্ভিদ প্রাণী প্রত্যেকটাকে আমরা সংরক্ষণ করব। শামুক নিয়ে প্রকল্প আছে, ঝিনুককেও আনতে হবে। কাঁকড়াকেও আনতে হবে। বাংলাদেশের যা প্রাণিজ, জলজ, ভূমিজ সম্পদ আমাদের আছে, প্রত্যেকটা আইটেমকে কাজে আনতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শামুক আমাদের দেশের অনেক নাগরিক খায়, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। সুতরাং এটা দেশের ভালো কমার্শিয়াল আইটেম। আমি না খাই, আপনি তো খেতে পারেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে এম এ মান্নান আরও বলেন, ‘মূল বার্তা হলো দেশি প্রজাতির মাছ। এগুলোকে বাঁচানো, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করা। তার সঙ্গে সঙ্গে শামুক, যা একটি জলজ প্রাণী। শামুক নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। প্রাইম মিনিস্টার ওয়াজ হাইলি এক্সাইটেড যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। কারণ, উনার বাড়ি ওই অঞ্চলে। ছোটবেলায় শামুক দেখেছেন। ওই এলাকায় শামুক থেকে চুন তৈরি হয়। কোটালীপাড়ায় চুন হয়। উনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন যে, আপনারা যে গুণগান করছেন শামুক নিয়ে, হাঁসের খাবার হয়। আরেকটা যে কাজ হয়, সেটা মনে আছে? চুন হয়।’

৪ প্রকল্প অনুমোদন : একনেক সভায় ৫৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা খরচে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ৪৪০ কোটি ৯৮ লাখ এবং বিদেশি ঋণ ৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একনেক সভা শেষে প্রকল্পগুলোর সার্বিক বিষয়ে তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩৯২টি দেশীয় প্রজাতির মাছচাষ প্রদর্শনী করা হবে। ১১০টি ধানক্ষেতে মাছচাষ প্রদর্শনী ও ৩৯১টি পেনে মাছচাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে। মৎস্য সেক্টর সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার ১ লাখ ৮ হাজার ৮৪৭ জন সুফলভোগীর দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে। চলতি সময় থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মৎস্য অধিদপ্তর। 

আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ককে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হবে। এ জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুরের অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সাফারি পার্কের বহিস্থ ও অভ্যন্তরীণ রাস্তায় যানজট নিরসন ও যোগাযোগ সুবিধার উন্নয়ন, পার্কে বিদ্যমান বন্যপ্রাণী এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বিধান ও বিনোদনের সুবিধাদি উন্নয়ন করা হবে। জানুয়ারি ২০১৭ থেকে চলমান প্রকল্পটি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়ন করা হবে। চলমান প্রকল্পে আরও ৭৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া একনেক সভায় ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইআরপি) : রাজউক’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া ১৪৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু তহবিল বাড়াতে বৈশ্বিক সমর্থন কামনা : জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অভিযোজন তহবিল বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জি২০-এর কাছে জোরালো সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল এফ২০ ক্লাইমেট সলিউশন উইক উপলক্ষে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল সভায় মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই সমর্থন চান। গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এফ২০ এবং কিং খালেদ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এর আয়োজন করেছে।

ওজোন স্তর রক্ষার আহ্বান :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বায়ুম-লীয় ওজোন ক্ষয়কারী মানবসৃষ্ট দ্রব্যগুলোর উৎপাদন ও ব্যবহার রোধ করলেই পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এজন্য ব্যাপক হারে জনসচেতনতা সৃষ্টি, বনায়ন, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুম-লের জীবন রক্ষাকারী প্রতিরক্ষা স্তর সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত