দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলাধীন কাঁকড়া নদীর কারেন্টেরহাট বালুমহালের সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিককে পেটানোর হুমকি দিয়েছেন ইজারার দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান শাহ। নতুন কাঁকড়া ব্রিজ, রেল ব্রিজ ও কারেন্টেরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠের পাশে সাতটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ হুমকি দেন।
জানা গেছে, বালুমহালটি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নামে ইজারা নেওয়া হলেও দেখাশোনা করছেন তার ভাই আজো শাহ ও আতিকুর রহমান শাহ।
গতকাল শনিবার বালুমহালের ছবি তুলে দায়িত্বে থাকা আতিকুরের কাছে ইজারার মালিক এবং ঘাট সম্পর্কে জানতে চান এই প্রতিবেদক। এতেই ক্ষেপে যান তিনি। পরে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘অফিসে যান, অফিসে সব কিছু আছে। এখানে আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে এ রকম কোনো ম্যানুয়ালে আছে আমার? আপনি সাংবাদিক হইছেন তো কী হইছে?’
এত উত্তেজিত হচ্ছেন কেন বললে তিনি আরও রেগে গিয়ে বলেন, ‘তুই এগুলো আমার কাছ থেকে নিবি কেন? সরকারি অফিস আছে না? সরকারি অফিসে গিয়ে নে। এখানে কার লোম ছেঁড়ার জন্য আসছিস? তুই আমাকে চেনো? আমি সাংবাদিককে পেটানো লোক। আমি এর আগেও সাংবাদিককে মেরেছি। শুনে দেখিস। সেখানে কেস পর্যন্ত হইছে। এখানে ফাজলামো করার জন্য আসছো! এখানে আসছ কেন? সাংবাদিক হয়েছো বলে আমি চুড়ি পরে থাকব না। পারলে আমার বিরুদ্ধে পেপারিং করে দিস যা! কী ছিঁড়তে পারিস তোকে আমি দেখে নিব!’
স্থানীয়রা জানান, সরকারি বালুমহাল হলেও কাঁকড়া নদীর কারেন্টেরহাটসংলগ্ন নতুন ব্রিজ এবং কারেন্টেরহাট ডিগ্রি কলেজের মাঠ ঘেঁষে দুই পাশে মোট ৭টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, প্রতিষ্ঠানসহ কারেন্টেরহাট বাজার এলাকাটি। এ ছাড়া বালু নিয়ে ১০ চাকার অবৈধ বড় বড় ট্রাক চালানোর ফলে সরকারি রাস্তাসহ ড্রেনেজব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং বালুমহাল ইজারা প্রদান ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন ২০১০ ধারা ৪ (খ) অনুযায়ী স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা হতে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে কথা বলতে ইজারাদার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত একাধিক নম্বরে কল করা হলেও সব কটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরতিজা হাসান বলেন, ‘আগেও এই ঘাট মালিককে জরিমানা করা হয়েছিল। তাদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে ড্রেজার মেশিন না চালায়। কিন্তু শোনেনি। বিষয়টা ইউএনও স্যারের সঙ্গে আলাপ করে দেখি, যা ব্যবস্থা নিতে বলেন নেব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আপনাকে এভাবে বলা ঠিক হয়নি। থানায় অথবা ইউএনও অফিসে একটা অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’
