আবাসন সংকটের নেপথ্যে মন্ত্রণালয়ের গোঁয়ার্তুমি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪৮ এএম

দেশের কভিড হাসপাতাল ও হাসপাতালের কভিড ইউনিটে কর্মরত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকার সুবিধা বাতিল করে গত ২৯ জুলাই এক পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে ২ আগস্ট থেকে পরিপত্র বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিপত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের টানা ১৫ দিন কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এ নিয়ে তখনই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চিকিৎসক ও নার্সরা। পরিপত্র বাতিলের দাবি জানায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিপত্র সংশোধনের কয়েক দফা প্রস্তাব পাঠায় মন্ত্রণালয়ে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেন। কিন্তু গত দেড় মাসেও এ ব্যাপারে কোনো সাড়া মেলেনি মন্ত্রণালয়ের। বরং চার দিন আগে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন এক পরিপত্র জারি করা হয় এবং হাসপাতালগুলোয় একটি চিঠি পাঠানো হয়। তাতে আগের পরিপত্র মানা হচ্ছে না বলে সতর্ক করে দেয় মন্ত্রণালয় এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে জটিলতা তৈরির আশঙ্কাও করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ চিকিৎসক ও নার্সদের হোটেল সুবিধা বাতিল করতে বাধ্য হয়।

এমনকি আগের পরিপত্র অনুযায়ী মন্ত্রণালয় চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার জন্য যে ছয়টি সরকারি ডরমিটরির কথা বলেছিল, সেসব ডরমিটরি কর্র্তৃপক্ষ এসব চিকিৎসক ও নার্সকে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে। কয়েকটি ডরমিটরি থাকার ব্যবস্থা করতে পারলেও সেখানে খাওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নেই বলে জানিয়ে দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে চার দিন ধরে কভিড চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সরা কভিড হাসপাতালগুলোয় বিক্ষোভ শুরু করেছেন; বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বিক্ষোভ চলছে। এসব হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরিচালকদের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ডিউটি শেষে কোয়ারেন্টাইনের জন্য নিরাপদ আবাসনব্যবস্থা না করলে তারা আর কভিড রোগীদের চিকিৎসা করবেন না।

এ নিয়ে বেশ বিপদে রয়েছেন হাসপাতালের পরিচালকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব হাসপাতালের কয়েকজন পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, চার দিন আগে নতুন পরিপত্র দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাতে হোটেল বাতিলের বিষয়টি মানতে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই নির্দেশ না মানলে ভবিষ্যতে হাসপাতালগুলো সমস্যায় পড়তে পারে বলেও একধরনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কভিড ইউনিটের চিকিৎসকরা পরিচালকের কাছে গেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে তিন-চার দিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসকরাও পরিচালকের কাছে গিয়েছিলেন।

এই পরিচালক বলেন, ২৯ জুলাই একটা পরিপত্র দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হোটেল আর ব্যবহার না করার জন্য। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে চার দিন আগে  তাগাদাপত্র দিয়েছে আমরা ওই আদেশ মানছি না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমার হাসপাতালের চিকিৎসকদের শনিবার থেকে হোটেল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও খুব একটা করতে পারিনি। কিছু বিকল্প ব্যবস্থা করেছিলাম। সরকার নির্ধারিত নায়েম ভবনে (জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি) পাঠিয়েছিলাম থাকার জন্য। ওখানে ডাক্তাররা থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মানসম্মত নয়। খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। যার কারণে ওরা বলেছেন, কভিড ডিউটি করে এভাবে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের অরক্ষিত করতে পারবেন না। নন-কভিডে করবেন। কভিডে করতে হলে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি তাদের বলেছি, তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। কিন্তু কভিড চিকিৎসা বন্ধ করার নির্দেশ নেই সরকারের। তাদের বলেছি, তাদের বক্তব্য ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেব। আরেক সরকারি হাসপাতালের এক পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের পরিপত্র সংশোধনের জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ঈদের পর একটা সংশোধনী আসার কথা ছিল। সেটার পরিবর্তে চার দিন আগে একটা নতুন পরিপত্র এসেছে। সেখানে লিখেছে, আমরা লক্ষ করছি অনেক হাসপাতাল আমাদের সেই পরিপত্র মেনে চলছে না এবং ভবিষ্যতে এই পরিপত্র মেনে না চললে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখতে পাচ্ছি। এ রকম করে একটা নতুন পরিপত্র জারি করেছে। তার মানে আগের পরিপত্র সংশোধন হয়নি। ওটাই মানতে হবে। ওটাই যদি মানি তা হলে এখন হোটেলে থাকতে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে লাগে, সেটা সরকার দেবে না। তার মানে ডাক্তাররা হোটেলে থাকতে পারবেন না। পরিপত্র অনুযায়ী একজন ডাক্তার পাবেন দুই হাজার, একজন সিস্টার ১ হাজার ২০০ ও কর্মচারী ৮০০ টাকা। এখন যে হোটল ভাড়া আছে, সেটা ডাক্তারদের সাড়ে তিন হাজার, নার্সদের তিন হাজার ও কর্মচারীদের দেড় হাজার টাকা। তাহলে এখন তাদের হোটেলে রাখতে হলে যে অতিরিক্ত টাকা, সেটা তো সরকার দেবে না পরিপত্র অনুযায়ী। ফলে হোটেল ছেড়ে দিয়ে পরিপত্র অনুসরণ করার জন্য ডাক্তারদের নির্দেশনা দিয়েছি। এ নির্দেশনা পেয়েই চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা কভিড চিকিৎসা না করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

এত কিছুর পরও মন্ত্রণালয় কেন পরিপত্র সংশোধন করছে নাজানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসক নেতারা বলেন, মন্ত্রণালয় গোঁয়ার্তুমি করছে। অথচ তাদের এ সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। বিজ্ঞানসম্মতও নয়। এটা মানতে বাধ্য করা হলে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে এবং কভিড চিকিৎসায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটা পরিপত্র দিয়েছিল। পরে আমরা এটাকে পরিবর্তনের জন্য বলেছিলাম। অনেকবারই বিভিন্ন রকমের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দেড় মাসেরও বেশি সময়ে এসব প্রস্তাবনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে কিছু বলা হয়নি। ফলে আগের নিয়মেই সব চলে আসছি। অর্থাৎ ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। কিন্তু শেষ যে মিটিং হয়েছে মন্ত্রণালয়ে, সেখানে সরকার যেটা বলেছে, ডাক্তারদের অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেখানে মন্ত্রণালয় যেটা বলতে চাইছে, আবাসনের বিষয়টা হাসপাতালগুলো নিজেরা হোটেলের ব্যবস্থা করবে এবং এটার জন্য যে খরচ হবে, সেটা সরকার মাথাপিছু হিসাব করে দেবে। এটার জন্য নির্দিষ্ট ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিউটির ব্যাপারেও সরকার আগের নিয়মের কথায় বলছে। প্রথম ৭ দিন ডিউটি, পরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন, পরের ৭ দিন ডিউটি। প্রথমে যেটা ছিল তিন সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে। কিন্তু সেটা এখন আর পৃথিবীর কোথাও নেই। এখন দুই সপ্তাহ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছি। এটা দু-এক দিনের মধ্যেই মন্ত্রী মহোদর স্বাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাবেন। অনুমোদন হয়ে গেলে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এই মহাপরিচালক বলেন, আমি নিজেও একজন ডাক্তার। যে পরিপত্র সেটা নিয়ে আমিও ফাইট করেছি। না, এটা হতে পারে না। এটা নিয়ে মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গেও অনেকবার বসেছি। আশা করছি এটার ভালো সমাধানই হবে। আর সরকার থেকে যে পর্যবেক্ষণ ছিল, সেটা ঠিক নয়। কারণ ডাক্তাররা ফাইফ স্টার হোটেল চান না। তারা চান নিরাপদ থাকার জায়গা। ওখানেই ভুল-বোঝাবুঝির জায়গা তৈরি হয়েছে। আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে। সমাধান করে ফেলব। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি কখনোই চাই না ডাক্তাররা ঝুঁকিতে থাক। তাদের পরিবার ঝুঁকিতে থাক। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আগের নিয়মেই চলবে। এটা নিয়েও আমরা হাসপাতাল পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ২৯ জুলাই সার্কুলার জারি হলো। দেড় মাস চলে গেল। এ সময় যে অর্থ ব্যয় হলো, সেটার কী হবে। এটা নিয়েও আমি মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, এটা তারা দেখবেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়কে ওই পরিপত্র বাতিলের ব্যাপারে চিঠি দিয়েছি, দেন-দরবার করেছি। তারপরও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে এত দিন ডাক্তার- নার্সরা মারা গেছেন, এখন পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। মন্ত্রণালয় বুঝতে চাইছে না তাদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। কারণ কভিডের জন্য সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রেখেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন কী ক্ষতি হয়ে যেত এই গুটিকয় চিকিৎসককে যদি হাসপাতালে রাখা হতো। ডাক্তারদের মুখে বলা হচ্ছে হিরো, কিন্তু বাস্তবে তাদের ও পরিবারকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে পিপিই ও মাস্ক না দিয়ে, সেগুলো চুরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল। আর এখন সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য তাদের পরিবারগুলো মৃত্যুর মুখে ফেলে দিচ্ছে; বিশেষ করে জুনিয়র ডাক্তারদের ঝুঁকি বেশি। যাদের বাড়িঘর নেই, থাকলেও এক বেড রুমের বাসা, কেউ মেসে থাকেন, অনেকে দুই বেড রুমের বাসা নিয়ে শ^শুর-শাশুড়ি বা বাবা-মা নিয়ে থাকেন, তাদের জন্য বিশাল ঝুঁকি হয়ে গেল।

সমাধান কীজানতে চাইলে এই নেতা বলেন, মন্ত্রণালয় সমাধান করতে পারে। তারা আগের আদেশ বাতিল করে বলতে পারে যতক্ষণ না করোনা একটা সহনীয় পর্যায়ে আসছে, তত দিন ডাক্তাররা ডিউটি শেষ করে হোটেলে আইসোলেশনে থাকবেন।

ডরমিটরির ব্যাপারে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ডরমিটরি না দেখেই এর কথা বলেছে। অনেক ডরমিটরি বলছে, তাদের এখন ট্রেনিং প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে বা আগামী মাস থেকে শুরু হবে। তারা ডরমিটরি দিতে পারবে না। যে ছয়টা ডরমিটরির কথা মন্ত্রণালয় বলছে, তারা সবাই থাকার জায়গা দিচ্ছে না। কারও সঙ্গে আলাপ না করেই এসব ডরমিটরির ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা শুরু থেকেই যে অব্যবস্থাপনার কথা বলে আসছি, সেটার সর্বশেষ উদাহরণ হলো এই ডরমিটরির বিষয়। তালিকা থেকে বের করে নাম বলে দিল। কিন্তু সেগুলোর কী অবস্থা, তা জানল না। তোতাপাখির মতো নাম বলে দিল। হাসপাতাল পরিচালকরা যখন যোগাযাগ করলেন, তারা বললেন যে রাখা যাবে না। আর কিছু ডরমিটরির অবস্থা যাচ্ছেতাই, মানসম্মত নয়।

একইভাবে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংকটের সমাধান খুব সহজ, কঠিন কোনো সমস্যা নয়। পরিপত্রে বলা আছে, ১৫ দিন টানা ডিউটি করবে ও ১৫ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবে। তার মানে ৩০ দিনের মধ্যে সে ১৫ দিন ডিউটি করবে। আমরা ওটাকে দিন একই রেখে ৭ দিন ডিউটি কভিড, ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন, আবার ৭ দিন নন-কভিড ডিউটি। তার মানে ঢেলে সাজিয়ে মাসের প্রথমে ও শেষে ৭ দিন করে ১৪ দিন ডিউটি করছে। মাঝখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখছি। সব একই থাকল। পরিপত্রটা একটু সংশোধন করে লাইন পরিবর্তন করলেই হয়। তা হলে সংক্রমণমুক্ত থাকার ব্যাপারে বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মত হয়। ১৫ দিন টানা ডিউটি করাও খুব কঠিন এবং এই ১৫ দিনের মধ্যে সে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। ৭ দিন ডিউটির পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকাটাই বিজ্ঞানসম্মত। পৃথিবীর সব জায়গায় এটাই মানা হচ্ছে।

এই পরিচালক বলেন, সরকার যে ডরমিটরিগুলো দিয়েছে, সেগুলো যদি নির্দিষ্ট করে সরকারি নির্দেশনা দিয়ে দিত, যদি বলত এসব ডরমিটরিতে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নাম উল্লেখ করে ডরমিটরিগুলো নির্দিষ্ট হাসপাতালের জন্য নির্ধারণ করত, অর্থাৎ কোন হাসপাতালের ডাক্তাররা কোন ডরমিটরিতে যাবেন, সেটা নির্দিষ্ট করা থাকলে ডাক্তাররাও হোটেল ছেড়ে ওই সব ডরমিটরিতে যেতে পারতেন। সেটা তো সরকার করেনি। আমরা ডরমিটরিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কোনো ডরমিটরির কর্মকর্তারা বলছেন, দেখছি, দেখব। সেখান থেকে বলা হচ্ছে তাদের ওয়ার্ড বয় নেই, বিছানাপত্র ঠিক নেই, খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, আপনারা নিজেরা খাবেন। এটা তো হলো না।

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, এখন যে হোটেলে আছে, সেখানেই থাকতে পারে। যেখানে ২ হাজার, ১ হাজার ২০০ ও ৮০০ টাকা করেছে। সেখানে যদি সরকার সাশ্রয় করতে চায়, তাহলে এখন যেটা দুই হাজার সেটা আড়াই হাজার করতে পারে, সিস্টারদের যেটা ১ হাজার ২০০, সেটা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা করতে পারে, কর্মচারীদের ৮০০-এর জায়গায় ১ হাজার করতে পারে। তাহলেই তো যে যেখানে আছে, সেখানেই থাকতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত