চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন, আমিরাবাদ ইউনিয়ন ও আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
গত সোমবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। এতে সদর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুচ্ছাফা চৌধুরী, আমিরাবাদ ইউনিয়নে সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইউনুছ এবং আধুনগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল কবির আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান।
তবে এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন থাকলেও এ ভোট নিয়ে দলে তেমন কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। সুষ্ঠ ভোট নিয়ে রয়েছে তাদের শঙ্কা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. জহির উদ্দিন। জহির উদ্দিন জানান, এলাকাবাসী সমর্থন করলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। আধুনগর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব মিয়া। এ ব্যাপারে আইয়ুব মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আমি জড়িত। এলাকায় নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান। আমি দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচন করব। এ ছাড়া আমিরাবাদ ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শহিদুল কবির সেলিম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসহাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান পদে সদর ইউনিয়নে খোরশেদ আলম সিকদার এবং আধুনগর ইউনিয়নে আবু নাসের চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আমিরাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এখনো প্রার্থী বাছাই করা হয়নি। তিনি বলেন, লোহাগাড়ায় বিএনপির যথেষ্ট সমর্থন আছে। যদি সুষ্ঠ ভোট হয় তাহলে বিএনপি তিনটি ইউনিয়নেই জয়লাভে আশাবাদী।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ভোটের অধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত। সে কারণে মানুষ বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দেবে। তবে সুষ্ঠ ভোট নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বঞ্চিতরা নির্বাচন করলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে। তবে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।
