সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন ছাড়া কোনো বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিষয় মানতে হবে এবং করপোরেশন থেকে এই নিবন্ধন নিতে হবে।’ অন্যদিকে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালগুলো চিকিৎসা ও পরীক্ষার নামে ডাকাতির মতো টাকাপয়সা নিচ্ছে। বেশি টাকা নিলেও নিজেদের চিকিৎসাবর্জ্য ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা করছে না। এভাবে যত্রতত্র চিকিৎসাবর্জ্য ফেলায় স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি পরিবেশও দূষণ হচ্ছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে সারা দেশের চিকিৎসাবর্জ্যরে নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় তারা এসব কথা বলেন। এ সময় আইনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তাপস বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’-এর ১১২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন কার্যকর হইবার তারিখে বা তৎপর করপোরেশন এলাকায় করপোরেশনের নিবন্ধন ব্যতীত কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট ইত্যাদি পরিচালনা করা যাইবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে একটা বিধিমালা-প্রবিধান করব। সুনির্দিষ্টভাবে চিকিৎসাবর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে, কী কী অবকাঠামো তাতে থাকতে হবে। ১০, ১০০ কিংবা ৫০০ শয্যার হাসপাতাল হোক, তাদের কী কী মানতে হবে, এ বিষয়গুলো তুলে ধরে আমরা তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই। চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি বিষয় উল্লেখ করে নিবন্ধনের আওতায় এনে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করব। আমাদের (করপোরেশন) নিবন্ধন ছাড়া কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক চলতে দেওয়া হবে না।’
ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতাল অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করছে। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষার বিল সম্পূর্ণ একটি ডাকাতির মতো। কিন্তু এটি হতে পারে না। বিল নিলেও তাদের বর্জ্যগুলো ঠিকমতো ফেলছে না তারা। এ বিষয়ে যথার্থ মনিটরিং করাও হচ্ছে না। কবে থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে নিজেদের চিকিৎসাবর্জ্য ফেলতে হবে, সেই তারিখ বেঁধে দেওয়া ছাড়া অন্য বিকল্প নেই।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বর্জ্য ইনসিনারেশন (ভস্মীকরণ) প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য আমিনবাজারে এই প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। দক্ষিণের মেয়রও এ ব্যাপারে আমাদের কাছে ছয়টি আবেদন পাঠিয়েছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেল বর্জ্যে ক্যানসারের রোগীর জিনিসপত্রও থাকে। কভিড-১৯ ছাড়া আরও অনেক সংক্রামক রোগ আছে। এসব বর্জ্য যদি সাধারণ বর্জ্যরে মতোই বিবেচনা করা হয়, সেটা ক্ষতিকারক হবে।’
