শীর্ষ বাজার মূলধনী কোম্পানি

তালিকাভুক্তির দ্বিতীয় দিনেই চতুর্থ ওয়ালটন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১৭ এএম

স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারের লেনদেনের দ্বিতীয় দিনেই দেশীয় ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ শীর্ষস্থানীয় বাজার মূলধনী কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটি বাজার মূলধনে চতুর্থ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। সেদিন দিনশেষে ওয়ালটনের বাজার মূলধনের পরিমাণ ১৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সেকেন্ডারি মার্কেটে কোম্পানিটির শেয়ারের যে চাহিদা, তাতে আর এক দিন লেনদেন হলেই শীর্ষবাজার মূলধনী কোম্পানিগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও করোনার কারণে ২০১৯-২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধনে শীর্ষে রয়েছে টেলিকম খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। ২০ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার বাজার মূলধন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তামাক খাতের কোম্পানি বিএটি বাংলাদেশ। এ ছাড়া ওষুধ খাতের দেশীয় জায়ান্ট কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। এই কোম্পানির বাজার মূলধন হচ্ছে ১৭ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পর ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে লেনদেন শুরু হয় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৫২ টাকা বরাদ্দ করা শেয়ার প্রথম দিনেই ৩৭৮ টাকায় লেনদেন হয়। পরদিনও শেয়ারটির দর ৫০ শতাংশ বেড়ে ৫৬৭ টাকায় উন্নীত হয়। যদিও দুই দিন বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির পরও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে রেখেছেন। লেনদেন শুরুর প্রথম দুই দিনে মাত্র ২ হাজার ৭৯০টি শেয়ারের হাতবদল হয়। ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আরও কয়েক দিন শেয়ারটির দর বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মূলত স্বল্পসংখ্যক ফ্রি-ফ্লোট (লেনদেনযোগ্য) শেয়ার ও উচ্চ মুনাফার করণে ওয়ালটনের শেয়ারের আকাশচুম্বী চাহিদা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে পরিশোধিত মূলধনের মাত্র শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ার ছেড়েছে। আর ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৪৫ টাকা ৪৩ পয়সা। অবশ্য ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ওয়ালটনের আয় আগের বছরের তুলনায় কমার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে ২০১৯-২০ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির আয় ব্যাপক হারে কমে গেছে। এ সময়ে ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ টাকা ১৪ পয়সা। ইপিএস কমেছে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের শেষ প্রান্তিকে আয় আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিনের লকডাউনের কারণে ওয়ালটনের উৎপাদন ও বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল। এ কারণে ২০১৯-২০ হিসাব বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা আগের বছরের চেয়ে কমার আশঙ্কা রয়েছে। 

ওয়ালটনের পর বাজার মূলধনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে এই কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকায়। একক কোম্পানি হিসেবে বাজার মূলধনে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রেনেটা, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বার্জার, ব্র্যাক ব্যাংক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত