এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০৪ এএম

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট লিখেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তারা ধর্ষকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ করেছে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ নামে একটি প্লাটফর্ম। গণধর্ষণ, প্রকাশ্য দিবালোকে নারী হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন করে ধর্ষকদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শাহবাগে বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, শুধু এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণ নয়, পাহাড়ে আদিবাসী নারী ধর্ষণ, সাভারে স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনারও দ্রুত বিচার হতে হবে। সমাবেশে অংশ নেন শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবিন আহসান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা আকরামুল হক, অ্যাক্টিভিস্ট অপরাজিতা সংগীতা, শতাব্দী ভব, অদিতি দাস প্রমুখ।

রবিন আহসান বলেন, ‘আমরা ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছি। একের পর এক এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে চলেছে, তার কোনো সঠিক বিচার হচ্ছে না। যার জন্য অপরাধীরাও তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করছে না। সিলেটে স্বামীর সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় আমরা ভীষণ রকম হতাশ। তবুও আশা রাখি উপযুক্ত বিচার হবে। আমরা সঠিক বিচার চাই। অপরাধীর শাস্তি হোক।’

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস লিখেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘সিলেট এম সি কলেজ এবং পাহাড়ে নারী ধর্ষণকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি চাই।’ বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদও এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

উদীচীর প্রতিবাদ ও নিন্দা : গণধর্ষণ, প্রকাশ্য দিবালোকে নারী হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দুর্বৃত্তদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন এই দাবি জানান।

দেশের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে উদীচীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক অবক্ষয় রুখতে সরকার নিজের দায় এড়াতে পারে না। ধর্ষক ও হত্যাকারীদের নাম-পরিচয় জানা সত্ত্বেও বিচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করতে পারা আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও বিচার বিভাগের ব্যর্থতা বলে মনে করে উদীচী। এই ঘটনাসমূহের পূর্ণ তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানায় উদীচী। সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় চলমান বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক সমাজের অবসানকল্পে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানায় উদীচী।

সুনামগঞ্জে মানববন্ধন : গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে ‘ধর্ষণ ও নির্যাতনবিরোধী সুনামগঞ্জের জনগণ’র ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনার কারণেই বারবার এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সিলেটে গৃহবধূর স্বামীকে হোস্টেলের ভেতর আটকে বর্বরোচিত এ নির্যাতনের ঘটনায় সারা দেশ লজ্জিত। নারীদের ওপর এমন নির্মম নিষ্ঠুরতার অপরাধী যে-ই হোক তার উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে। সে যে দলেরই নেতা বা কর্মী হোক। দ্রুত এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।

বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য্য, সমাজসেবক চন্দন দাস, ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিব আহমেদ, যুব ইউনিয়ন নেতা নরেন ভট্টাচার্য্য, যুবলীগ নেতা মিন্টু চৌধুরী, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুব্রত সরকার, ছাত্রলীগ নেতা সুজন নন্দী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত