‘৯৯৯’-এ অভিযোগ

জিম্মিদের উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০৬ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘৯৯৯’-এ অভিযোগ পেয়ে জিম্মিদশা থেকে দুই যুবককে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের অস্ত্র ও গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। হামলায় আহত হয়েছেন পুলিশ ও এক আনসার সদস্যসহ আটজন। পরে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কসাইপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তাররা হলেন শেরপুরের কালীগঞ্জের দমদমা গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের মেয়ে রুশমি আরা, শ্রীপুর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নাজমুল হোসেন রকির স্ত্রী মনীষা মনি, দিঘিপাড়া নয়নপুর গ্রামের ফরহাদ, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাফুয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ গ্রামের আবদুর রহমান।

হামলার শিকার আবুল হোসেন রনি (৩০) জানান, তিনি রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার ‘রাখা ইন্টারন্যাশনালের’ মার্কেটিং অফিসার। লাইসেন্সধারী এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে লোক পাঠানো হয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীপুরের নোয়াগাঁও এলাকার ইসমাইল হোসেন ও শাহাদত হোসেন নামে দুজনকে দুবাই পাঠানোর জন্য তাদের থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। লকডাউনে তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়। এতে করে তাদের আর পাঠানো সম্ভব হয়নি। জমা টাকা ফেরত চাইলে ইসমাইলকে এপ্রিলে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করে দেওয়া হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ফোন করে ইসমাইল তার গ্রামের বাড়িতে তাকে দাওয়াত এবং আরও লোকজনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সহকর্মী ফয়সাল আহমেদকে (৩০) নিয়ে তিনি আসেন।

রনি আরও জানান, খাওয়া-দাওয়ার পর ইসমাইল দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। পরে কয়েকজনকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সঙ্গে থাকা মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। তাতে ৫ লাখ টাকা পাবেন লিখে পরিশোধের জন্য চাপ দেন। ফয়সালের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে পরদিন শুক্রবার রাত ৮টায় অফিস থেকে ওমর বেপারী, মো. কালাম ও মাসুম ঘটনাস্থলে যান। মাসুম ছাড়া অন্যরা ঘরে ঢুকলে আবারও দরজা আটকে স্ট্যাম্প দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দিতে না পারায় তাদের মারধর করা হয়। মাসুম বিষয়টি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান।

শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হাসান জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ইসমাইলের বাড়িতে যায়। এ সময় ইসমাইল ও তার লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং সঙ্গে থাকা শটগান ও পিস্তলের গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ছিনিয়ে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে নারীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার ও ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। মারামারি, সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত