মুক্তিযুদ্ধের নতুন সিনেমায় অপর্ণা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৮ এএম

লকডাউনে ঘরে থাকতে থাকতে অনেকেরই ওজন বেড়ে গেছে। অপর্ণা ঘোষ এ সময়টাকে কাজে লাগিয়েছেন নিজের ফিটনেস বাড়াতে। ঈদের নাটক ‘প্রেশারকুকার’-এ অপর্ণা ঘোষকে যারা দেখেছেন তারা বুঝেছেন, তিনি কীভাবে নিজেকে বদলে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমিও লকডাউনের শুরুতে খুব খাওয়া-দাওয়া করছিলাম। পরে ভাবলাম, এত খেয়ে শুধু শুধু ওজন বাড়িয়ে লাভ নেই; বরং একটু কসরত করে নিজেকে ফিট করি। তাতে নিজেরই লাভ। একদিকে সময় কেটে যাবে, অন্যদিকে ক্যামেরার সামনে এলে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী লাগবে।’ শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, এই নাটকে তার অভিনয় দেখেও সবাই প্রশংসা করেছেন। ‘অনেক কাজই করি, কিন্তু সব কাজের জন্য ভক্ত থেকে শুরু করে কাছের মানুষজন, সহকর্মীসবার প্রশংসা পাই না। প্রেশারকুকার দেখার পর অনেক তারকা আমাকে ফোন ও টেক্সট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আর শাফায়েত মনসুর রানার নাটকের আলাদা দর্শক আছে। তাদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পেয়েছি।’

অপর্ণা এখন গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। বাবা-মাকে ঝুঁকিতে ফেলতে চান না বলে লকডাউনে একাই ছিলেন ঢাকায়। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি বাবা-মায়ের কাছে গেছেন। নতুন বাসা সাজিয়ে তাদের রেখে ফিরবেন ঢাকায়। এরপর শুরু করবেন নতুন সিনেমার প্রস্তুতি। কারণ ১০ অক্টোবর থেকে মোবারক হোসেন রুমির পরিচালনায় ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ নামের সরকারি অনুদানের সিনেমার কাজ করতে হবে তাকে। অপর্ণা বলেন, ‘এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা। আমি এর আগেও মুক্তিযুদ্ধের গল্পের সিনেমা করেছি। অনেক নাটকও করেছি। কিন্তু তারপরও আমার কোনো অনীহা নেই। যতবারই মুক্তিযুদ্ধের গল্প পাব, ততবারই কাজ করব। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাইনি। কিন্তু এ ধরনের কাজের মাধ্যমে সেই অপ্রাপ্তি কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারি। তা ছাড়া নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার দায়িত্ব শিল্পী হিসেবে অবশ্যই আমার আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা মানেই যে গোলাগুলি বা যুদ্ধ দেখাতে হবে তার কোনো মানে নেই। সে সময় প্রতিটি বাড়িতেই আলাদা আলাদা গল্প তৈরি হয়েছে। ফলে এ নিয়ে অসংখ্য সিনেমা-নাটক-গান-কবিতা হতে পারে।’

অপর্ণা ঘোষকে অনেক দিন ধারাবাহিক নাটকে দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে তিনি এক বছর আগেও বলেছেন, ‘ধারাবাহিক নাটকে কাজ করার ইচ্ছা নেই। কারণ এতে গল্পের ধারাবাহিকতা থাকে না। তা ছাড়া একটি ধারাবাহিকে যুক্ত হলে মাসের নির্দিষ্ট একটা সময় তার জন্য রেখে দিতে হয়। সে সময় অনেক ভালো গল্পের অন্য কাজ এলে তা করা সম্ভব হয় না।’ কিন্তু সম্প্রতি তিনি আরটিভির ‘টিপু সুলতান’ নামের একটি ধারাবাহিকে কাজ করেছেন। এ প্রসঙ্গে অপর্ণার ভাষ্য, ‘টিপু সুলতান নতুন কোনো ধারাবাহিক নাটক নয়। হিরণ জামান এই ধারাবাহিকের শ্যুটিং শুরু করেন ২০১৪ সালে। তখন আমি আরও কিছু ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করতাম। কিন্তু তখন এই ধারাবাহিকটি প্রচার হয়নি। এখন আরটিভিতে প্রচার হবে। তাই বাকি কিছু কাজ আমাকে বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে।’

এ ছাড়া সম্প্রতি তিনি নাহিদ আহমেদ পিয়ালের পরিচালনায় ‘অচিরা’, শওকত খান শুভর পরিচালনায় ‘ইলেকট্রিশিয়ান’ ও গোলাম হাবিব লিটুর পরিচালনায় ‘প্রবাসীর বউ’ নামে তিনটি খন্ড নাটকে অভিনয় করেছেন। অপর্ণা বলেন, ‘তিনটি নাটকের গল্প তিন ধরনের। প্রতিটি চরিত্রে অভিনয়ের জায়গা ছিল। অচিরা নাটকটি নিয়ে দর্শককে কিছু নিউজে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। এটা রবীন্দ্রনাথের কোনো গল্প থেকে হয়নি। অচিরা নামে তার সৃষ্ট চরিত্র রয়েছে। এই নাটকের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের শুধু এটুকুই সম্পর্ক। তবে গল্পটি একেবারেই সমসাময়িক। আর প্রবাসীর বউ নাটকে আমার চরিত্রের নাম রাবু। স্বামী ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে প্রতারিত হয়। পাওনাদারদের চাপের কারণে সে পালিয়ে বেড়ায়। কিন্তু অনেকেরই ধারণা, সে ঠিকই বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছে। এ নিয়ে শাশুড়ি, দেবর, পাওনাদার ও এলাকার বখাটেদের আচরণে রাবুর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। টেলিছবিটি শিগগিরই চ্যানেল আইয়ে দেখানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত