জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। করোনাকালে নিম্নমানের সাধারণ মাস্কের মোড়কে ‘এন-৯৫ মাস্ক’ লিখে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) সরবরাহ করে চিকিৎসকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আবদুর রাজ্জাককে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। দুদকের সিনিয়র সচিব দিলওয়ার বখত এসব নিশ্চিত করেন।
দুদক সচিব বলেন, নকল মাস্ক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সিএমএসডির সাবেক উপপরিচালক ডা. জাকির হোসেন। এ মামলায় আবদুর রাজ্জাক ও জাকির হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। রাজ্জাক মামলার সাত নম্বর আসামি। অপর ৬ আসামি সিএমএসডির কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের সম্পদের হিসাব চাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে গতকাল বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন নিয়ে আবদুর রাজ্জাককে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক নুরুল হুদা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, এন-৯৫ মাস্কের পরিবর্তে জেএমআইর নকল এন-৯৫ মাস্ক সিএমএসডি গ্রহণ ও বিতরণ করে। এতে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যদের মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। এ অভিযোগে গতকাল দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. নূরুল হুদা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ মামলা করেন। মামলার পর রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম জেএমআই চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করে।
আসামিরা হলেন সিএমএসডির সাবেক উপপরিচালক ও বর্তমানে কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. জাকির হোসেন খান, সিএমএসডির সহকারী পরিচালক (স্টোরেজ অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) ও বর্তমানে সিএমএসডির এসঅ্যান্ডডি শাখার সহকারী পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান সরকার, সিএমএসডির চিফ কো-অর্ডিনেটর ও ডেস্ক অফিসার বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত ডা. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ডেস্ক অফিসার ও স্টোরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা (বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার) ডা. সাব্বির আহমেদ, সিএমএসডির ভারপ্রাপ্ত স্টোর অফিসার (বর্তমানে এলপিআর ভোগরত) মো. কবির আহম্মেদ, সিএমএসডির সিনিয়র স্টোরকিপার মোহাম্মদ ইউসুফ ফকির ও জেএমআইর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাক।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেরা লাভবান হয়। তারা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকৃত এন-৯৫ মাস্কের পরিবর্তে জেএমআই ফেসমাস্ক মুদ্রিত বড় কার্টনের মধ্যে এন-৯৫ ফেসমাস্ক লেখে। তারা মুদ্রিত ছোট বক্সে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড লিখে ২০ হাজার ৬১০ পিস নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করে। এসব মাস্কের গায়ে কোম্পানির নাম, মাস্কের নাম বা অন্য কোনো লেখা বা ছবি মুদ্রিত ছিল না। সিএমএসডিতে সরবরাহ করা ওইসব মাস্ক গ্রহণ করে ১০টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করে, যা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মামলায় আরও বলা হয়, সিএমএসডির নিয়মানুযায়ী সার্ভে কমিটির মাধ্যমে যাচাই করে পণ্য গ্রহণ করার কথা। কিন্তু সার্ভে কমিটির মাধ্যমে যাচাই না করেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হয়ে কিংবা সরবরাহকারীকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে উল্লিখিত নকল এন-৯৫ মাস্ক গ্রহণ করেন। একই তারিখে অসৎ উদ্দেশ্যে উক্ত নকল এন-৯৫ মাস্ক ১০টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও অন্যদের মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেন।
