দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো সেপ্টেম্বরে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:২৪ এএম

চলতি বছরে বিদেশে সাড়ে সাত লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য থাকলেও মহামারী করোনার কারণে আট মাসে মাত্র ১ লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম। এর মধ্যে প্রবাসীদের চাকরি নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিদেশে কর্মসংস্থানের এই করুণ চিত্রের মধ্যেই প্রবাসী আয়ে রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে রেকর্ড রেমিট্যান্সের পর সেপ্টেম্বরেও প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২১৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

চলতি বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসে ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। তার আগের মাস জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ২১৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা হিসেবে)। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ১৪৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৭১ কোটি ৩১ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৫১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

করোনার কারণে বিদেশে কর্মসংস্থানে ধস নেমেছে। ২০২০ সালে বিদেশে কর্মসংস্থানের টার্গেট ছিল সাড়ে সাত লাখ। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। অথচ ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ৪ লাখ ৬ হাজার ৯৬২ জন বাংলাদেশি কাজ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। সে হিসাবে এবার বিদেশে কর্মসংস্থান ৫৫ শতাংশ কমেছে।

রেমিট্যান্স আয়ের সবচেয়ে বড় অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা অস্থিতিশীলতা চলছে। জ¦ালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে করোনা সংকটের কারণে সেখানে বাংলাদেশিদের আয়ের উৎস সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জন কর্মী দেশে এসেছেন, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা। তবে করোনায় প্রবাসীদের চাকরি নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই রেকর্ড রেমিট্যান্স আসছে দেশে।

প্রবাসী আয়ে সরকারের ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ও করোনা সংকটের কারণে অবৈধ হুন্ডি প্রায় বন্ধ থাকায় মে মাস থেকে  বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ছে। প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা  মোট ১ হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ  দেশে পাঠিয়েছেন। দেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত অর্থ দেশে আসেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণে  রেকর্ড হয়। ওই সময় প্রবাসীরা ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার  রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। সেই হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আগে সৌদি আরব থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ দেশ থেকে মোট ৪০১ কোটি ৫১ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৪৭ কোটি ডলার। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ সময়ে রেমিট্যান্স আসে ২৪০ কোটি ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আরব আমিরাতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত