২০৪১ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কভিড-১৯ মহামারীতে নারী কর্মীদের রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মহামারী, বিশেষ করে নারীদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সময়ে নারীরা বৈষম্য এবং বেড়ে যাওয়া পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এ কারণে নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের কষ্টার্জিত অর্জন হুমকির মুখে।’
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফোর্থ ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন উইমেনের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নারীর সমতা, ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার নবায়ন ও প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি।
ভিডিওবার্তায় তিনটি বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করেন শেখ হাসিনা। প্রথমত, সম্ভাবনা উপলব্ধি করা হয়েছে এমন প্রতিটি নারীর কাছ থেকে, যার প্রতিভা কাজে লাগানো হয়েছে এমন প্রতিটি নারীর কাছ থেকেই বিশ্ব উপকৃত হতে পারে এবং এটি কেবল শিক্ষার মাধ্যমেই করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, যে আয় ও কর্মসংস্থান থেকে ক্ষমতায়ন আসে। সুতরাং, আয়-উৎসাহমূলক কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ত করা একটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তৃতীয়ত, যে কভিড-১৯ মহামারীর এ সময়ে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং অন্যান্য বড় কর্মসংস্থান খাতগুলোয় অভিবাসী শ্রমিকসহ নারী শ্রমিকদের চাকরি অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে যাতে তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল না হয়ে পড়েন।
প্রায় সব দেশই নারী ও মেয়েদের উন্নয়ন এবং সুরক্ষার জন্য আইনিকাঠামো তৈরি করে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ১৯৯৫ সালের ‘বেইজিং ডিক্লারেশন অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন’ লিঙ্গ সমতা এবং নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য একটি সাহসী রোডম্যাপ তৈরি করেছিল। এটি গভীরভাবে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করেছে।
দেশে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উন্নয়নের এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীদের রেখেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশে পুরুষ ও নারীদের জন্য সমঅধিকারের নিশ্চয়তা দিয়ে দেশে একটি প্রগতিশীল সংবিধান তৈরি হয়।
২০১১ সালে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতিমালার উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নারী শিক্ষাকে একটি অগ্রাধিকার এবং নারীদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে একটি প্রয়োজনীয়তায় পরিণত করেছি। আমরা নারীদের উন্নয়নের সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে দেখি। জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন পঞ্চাশে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে সংসদ সদস্য, উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংসদ স্পিকাররা হলেন নারী। স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য ৩০ শতাংশ আসন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জনসেবা খাতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেও বিশেষ বিধান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নারীরা এখন উচ্চ আদালতের বিচারক, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার নারী সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের নারীরা বাধা অতিক্রম করছেন এবং ক্যারিয়ারে সফল হচ্ছেন, যা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম কখনই ভাবতে পারেনি।’
এ ছাড়া, বর্তমানে প্রায় দুই কোটি নারী কৃষি, শিল্প ও পরিষেবা খাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং ৩৫ লাখের বেশি নারী দেশের বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক খাতে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
