সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় রবিবার সকাল ১০টার দিকে ৩টি পথসভা, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খাদ্যভাতা প্রদান ও মেরিন শিপিং ডিজির নানা হয়রানি বন্ধসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বাঘাবাড়ি ও নগরবাড়ির নৌযান শ্রমিকেরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বাঘাবাড়ি শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি সিরাজ মিয়া মাস্টার।
এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া, বাহার উদ্দিন, আব্বাস মোল্লা, মনিরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম সবুজ, শফিকুল ইসলাম, নয়ন হালদার, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
বাঘাবাড়ি ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় চত্বর, বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের প্রধান গেটে ও বাফার গুদাম গেট এলাকায় ৩টি পথসভা ও বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ৩নং পল্টুনের সামনের বট তলায় এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া নৌযান শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে বগুড়া-নগরবাড়ি মহা সড়ক ও নৌবন্দর এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
এসব পথসভা ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, বেতন বৃদ্ধি, খাদ্যভাতা প্রদান, বাল্কহেডসহ সকল নৌযানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভারতগামী নৌযান শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাশ প্রদান ও হয়রানি বন্ধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত নৌযান শ্রমিকদের ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান, নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদান, মেরিন শিপিং ডিজির নানা হয়রানি বন্ধ, ভুয়া শ্রমিক দিয়ে গঠিত বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ভুয়া কমিটি বাতিল, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নদীর সঠিক নাব্য রক্ষা, মার্কা, বয়া, বাতি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থাপনসহ তাদের ১১ দফা চুক্তি আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নৌযান মালিকদের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তা না হলে তারা আগামী ১৯ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন শুরু করতে বাধ্য হবেন। এ জন্য সকল নৌযান শ্রমিকদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বাঘাবাড়িতে তাদের আন্দোলন সংগ্রাম দমাতে একটি মহল অপতৎপরতা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ভুয়া নৌযান শ্রমিক দিয়ে বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামের একটি ভুয়া সংগঠন খুলে ভুয়া কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির সদস্যদের কেউই নৌযান শ্রমিক নয়। তারা কোনো দিনও নৌযান শ্রমিক ছিল না। প্রকৃত নৌযান শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের ভুয়া কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ নিয়ে নৌযান শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ভুয়া কমিটি বাতিল করতে হবে। তা না হলে যে কোন সময় দু‘পক্ষের মধ্যে হামলা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তা না হলে নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবে।
