এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ

গ্রেপ্তার ৮ আসামির স্বীকারোক্তি ধর্ষণ করেছে ৪ জন

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৩ এএম

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে (১৯) দল বেঁধে ধর্ষণ মামলায় গত তিন দিনে গ্রেপ্তার ৮ আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সর্বশেষ গতকাল রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে মামলার ২ নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫)। সিলেটের অতিরিক্ত চিফ ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে আসামি তারেক ও সিএমএম কোর্ট-২-এর বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে আসামি মাহফুজ জবানবন্দি দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারেক ও মাহফুজ ধর্ষণ ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে। তারা পুরো ঘটনার বিবরণও আদালতকে জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আসামি তারেক জানিয়েছে এমসি কলেজ ফটক থেকে ওই দম্পতিকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় সে গাড়ি চালিয়েছে। গাড়িটি দ্রুত চালিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরের একেবারে শেষ প্রান্তে নেওয়া হয়। এরপর স্বামীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সাইফুর, রনি ও অর্জুনের পাশাপাশি তারেক নিজেও তরুণীকে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

এদিকে আসামি মাহফুজ বলেছে, সে ধর্ষণ করেনি। একটি ঝামেলা হয়েছে মোবাইল ফোনে এমন খবর পেয়ে মোটরসাইকেলে করে সে ছাত্রাবাসে যায়। এরপর গিয়ে ঘটনা দেখে। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

এর আগে গত শুক্র ও শনিবার মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি সাইফুর রহমান, ৩ নম্বর আসামি মাহবুবুর রহমান রনি ও ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করও গাড়ির ভেতরে চার দফায় তরুণীকে ধর্ষণের কথা আদালতে স্বীকার করে। ধর্ষণের পর তারা গাড়ি আটকে রেখে আলামত নষ্টের চেষ্টা করেছিল বলেও স্বীকার করে। তবে পুলিশ চলে আসায় তারা সেটা করতে পারেনি। দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। মামলার ৫ নম্বর আসামি রবিউলও ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে সে ধর্ষণ করেনি বলে জানিয়েছে।

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও রাজন মিয়া গত শনিবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছে, ওই তরুণী তাদের পূর্বপরিচিত। সেই সূত্রে এমসি কলেজ এলাকায় তাদের দেখা হয়। পরে তরুণী তার স্বামীর সঙ্গে চলে যাওয়ার সময় সাইফুর, অর্জুনসহ অন্যরা তাদেরকে ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য জানান, গতকাল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারেক ও মাহফুজ ধর্ষণকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এর আগের দুই দিনে অন্য ৬ আসামিও স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ ছাড়া সব আসামির ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।         

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত