ভারত রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পর সংকট সামাল দিতে মিয়ানমার, পাকিস্তান, তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেন ব্যবসায়ীরা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবিধ) পক্ষ থেকেও ট্রাক সেলের মাধ্যমে চালু করা হয় খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম। এত কিছুর পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি নিত্যপণ্যটির দাম। দেশে ভোগ্যপণ্যের প্রধান পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গতকাল মঙ্গলবার মান ভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮২-৮৫ ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০-৮২ টাকায়। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাজারে সৃষ্ট সংকট এখন পর্যন্ত কাটেনি। সরবরাহ সংকটে দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
নগরীর আসকার দীঘির পাড় এলাকার মুদি দোকানদার মো. রফিক বলেন, গতকাল সকালে খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট থেকে প্রতি কেজি ৮৫ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ কিনে এনে দোকানে বিক্রি করছেন ৯৫ টাকা দরে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেও একই পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজারে চাহিদার চেয়ে পেঁয়াজের সরবরাহ কম। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণ হয়নি। আমদানিকারকদের আগের এলসি করা পেঁয়াজের মধ্যে ২৫ হাজার টন ছাড়করণের কথা থাকলেও এখনো তা আসেনি। অন্যদিকে মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের মধ্যে এ পর্যন্ত খালাস হয়েছে ৫০০ টনের মতো। আর তা সরবরাহ হয়েছে দেশজুড়ে। ফলে পেঁয়াজের দরে তা ইতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ইতিমধ্যে ফরিদপুর ও পাবনা থেকে কিছু দেশি পেঁয়াজ আসছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম কমছে না।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান দেশ রপান্তরকে জানান, গত এক মাসে ১২ দেশ থেকে এক লাখ ৬১ হাজার ৪৫৭ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে গত সোমবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬ টন পেঁয়াজের ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়েছে। পেঁয়াজের আরও চালান পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানান তিনি।
একাধিক আমদানিকারকের পক্ষে চট্টগ্রাম বন্দরে পেঁয়াজের চালান খালাসের দায়িত্বে থাকা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান মারকো ইন্টারন্যাশনাল সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকরামুল হক ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি হওয়া ৫০০-৬০০ টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। কিছু কন্টেইনার বন্দর ইয়ার্ডে রয়েছে। আমদানিকারকের নির্দেশনা পেলেই সেগুলো ডেলিভারি নেওয়া হবে। তিনি জানান, চীন, তুরস্ক, মিসর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আসার কথা রয়েছে। পেঁয়াজের কন্টেইনারবাহী একটি জাহাজ গতকাল বহির্নোঙরে এসেছে। আজ এটি জেটিতে বার্থিং নিতে পারে।
রপ্তানি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। ৩০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজের দাম ওঠে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত। সংকট কাটাতে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সারা দেশে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে ট্রাকে করে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি। এক মাস পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত পেঁয়াজের দরের ঊর্ধ্বগতি থামানো যায়নি।
