নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে এক নারীকে নির্যাতনসহ দেশব্যাপী একের পর এক ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে ছাত্র ইউনিয়নের কালো পতাকা মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় থেকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করলে পরিবাগ মোড়ে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের হাতাহাতি শুরু হলে এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে বলে দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা। এতে ছাত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এদিকে গতকাল ‘সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন পদযাত্রা করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ধর্ষণবিরোধী মোমবাতি প্রজ¦ালন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বেলা ১২টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয়ে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, লেখক, কবি, শিল্পী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নারী অধিকারকর্মীরাও তাতে যোগ দেন।
ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনীক রায় বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পুলিশ আটকে দিয়েছে, নেতাকর্মীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। আমাদের আটজন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন। পুলিশ ধর্ষকদের গ্রেপ্তার না করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ বলেন, মিছিলে ‘পুলিশের হামলায়’ ছাত্র ইউনিয়ন মোহাম্মদপুর থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন শুভর হাত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন একই শাখার কোষাধ্যক্ষ ইরফান খান প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক ইমন শিকদার, সদস্য অর্ণব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আসমানী আশা, ঢাকা মহানগর সংসদের সদস্য মাহমুদা দীপা, ধানমণ্ডি থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ তাজোয়ার শুভ্র, লালবাগ থানা শাখার সদস্য রাসেল রহমান।
লাঠিপেটা করার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাস্তায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে শাহবাগ শাকুরা পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডের তালা ভেঙে পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে।’
পুলিশের লাঠিপেটার পর মিছিলকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ধর্ষক ও নিপীড়কদের শাস্তির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগের দাবি জানান। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে মিছিলকারীরা আবার শাহবাগ হয়ে টিএসসি এলাকায় ফিরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শাহবাগে মশাল মিছিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি : গতকাল ‘সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন পদযাত্রা করেন। এ কর্মসূচির আয়োজন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পদযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, আদালত এলাকা, জনসন রোড, রায়সাহেব বাজার ঘুরে বাহাদুর শাহ পার্ক, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ঘুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা দুই সারিতে সারিবদ্ধ হয়ে পদযাত্রাটি করেন। এতে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচির আয়োজকরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। দেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, নিপীড়নের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে এবং নির্মমতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা আরও তলিয়ে বিচার করতে হবে। অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, ধর্ষণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ও সামাজিক আন্দোলন। নারীর অগ্রগতির পথে এ ঘৃন্য কর্মকাণ্ড বিরাট অন্তরায়। কঠোরভাবে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
ধর্ষণের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্বালন : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ দেশব্যাপী ধর্ষণ, নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ধর্ষণবিরোধী মোমবাতি প্রজ¦ালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গতকাল সন্ধ্যায় এ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। সেই সঙ্গে সারা দেশে ছাত্রলীগের সব ইউনিটকে যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে আজ বুধবার একযোগে আলোক প্রজ¦ালন কর্মসূচি আয়োজনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
