চট্টগ্রামের নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ে আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন আলমগীর কবির, তসলিম উদ্দিন মন্টু ও মোহাম্মদ আজম।
প্রায় ১৯ বছর আগের চাঞ্চল্যকর ও দেশ-বিদেশে আলোচিত এ হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদন্ডের সাজা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে এক আসামির করা আপিল ও দুই আসামির জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগের এ রায় এলো। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানি শেষ হয়।
তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে আমৃত্যু কারাদন্ড রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। আসামি আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তসলিম উদ্দিন মন্টু ও আজমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত রায়ে ওই তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ। রায়ে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন মানে আসামিদের আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে।’
২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের জামাল খান রোডের বাসায় ঢুকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা অধ্যক্ষ মুহুরীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী উমা মুহুরী নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০০৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে নাছির ওরফে গিট্টু নাছির, মো. আজম, আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর ও তছলিমউদ্দিন মন্টুকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল, মো. শাহজাহান, মহিউদ্দিন ওরফে মহিন উদ্দিন (পলাতক) ও হাবিব খানকে (পলাতক) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। অপর চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তারা খালাস পান।
ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৬ সালের জুলাই মাসে হাইকোর্টের রায়ে আলমগীর, আজম ও মন্টুর মৃত্যুদন্ড বহাল থাকে। এর আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গিট্টু নাছির ২০০৫ সালের মার্চে র্যাবের সঙ্গে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সাইফুল ও শাহজাহান হাইকোর্টে খালাস পান। খালাসপ্রাপ্ত চারজনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের করা আপিল হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আলমগীর ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে আপিল করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মন্টু ও আজমের পক্ষে ২০০৬ সালে জেল আপিল করা হয়।
