জীবন পুনঃলিখন রসায়নে নোবেল ২ নারী গবেষকের

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৪ এএম

জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে ডিএনএ সম্পাদনার সূক্ষ্মতম কৌশল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর রসায়নে নোবেল পেয়েছেন দুই নারী গবেষক। রয়াল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস গতকাল বুধবার এ পুরস্কারের জন্য ফরাসি গবেষক ইমানুয়েল শাপেনসিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার এ ডাউডনার নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটি বলছে, জিন সম্পাদনার কৌশল উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইমানুয়েল শাপেনসিয়ে ও জেনিফার এ ডাউডনা। ফরাসি অণুজীববিজ্ঞানী শাপেনসিয়ে বর্তমানে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইউনিট ফর দ্য সায়েন্স অব প্যাথোজেনসের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ১৯৬৮ সালে জন্ম নেওয়া শাপেনসিয়ে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি করেন। আর মার্কিন বিজ্ঞানী জেনিফার এ ডাউডনা ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া ডাউডনার যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, বোস্টন থেকে পিএইচডি করেছেন। তারা দুজনই জিন সম্পাদনার কৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এবারের নোবেল পুরস্কারের এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন তারা। আগামী ১০ ডিসেম্বর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার।

প্রতিটি জীবন্ত প্রাণীর বংশানুর বা বংশগতির মৌলিক আণবিক একক হচ্ছে জিন। সন্তান বা উত্তরসূরি পিতা-মাতার কাছ থেকেই একটি করে জিন পায়। জীবজগতের বংশগতির ধারক ও বাহক হচ্ছে এই ডিএনএ। ডিএনএ’র মাধ্যমেই জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়। সন্তান যে তার বাবা-মায়ের মতো দেখতে হয়, সেটাও এ জিনের কারণে। সহজভাবে একে বলা যায় জীবনের নীলনকশা বা কোনো জীবের জীবন-বিধান। জীবের বৃদ্ধি, প্রজনন, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে জিনোম।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এককোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী কিংবা উদ্ভিদ এই ডিএনএ বা জিনোমে গঠিত হয়েছে। ফলে ডিএনএ বা জিনোমের সামান্য পরিবর্তন করে জীব বা প্রাণীর জীবন চক্রের বড় ধরনের পরিবর্তন করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হিউম্যান জেনোম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কোনো জীবের শরীরের বিষয় জানতে, তার ত্রুটি শনাক্ত বা দূর করতে হলে আগে তার জিন সম্পর্কে জানতে হবে। আর জিন সম্পর্কে জানতে বা শনাক্ত করার জন্য প্রথমে তার জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে হবে। জিনোম সিকোয়েন্সিং করার অর্থ হলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিএনএ অণুর ভেতর বেইসগুলো কীভাবে আছে তা বের করা। বর্তমানে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে দ্রুত সেটা করা হয়। এটা করে জীব বা প্রাণীর ভেতরের জীবন নকশা বের করা হয়। ফলে এরপর বিজ্ঞানীরা সেই জিনোমে বা ডিএনএতে পরিবর্তন এনে ক্ষতিকর উপাদান বা ঝুঁকি হ্রাস করার চেষ্টা করতে পারেন।

ইমানুয়েল শাপেনসিয়ে এবং জেনিফার ডাউডনা এ ডিএনএ সম্পাদনার সূক্ষ্মতম কৌশল আবিষ্কার করেছেন। তারা যে পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, সেটি হলো সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯ পদ্ধতি। এটি নিখুঁতভাবে জিনোম সম্পাদনার কাজটি সম্ভব করেছে। ২০১৪ সালে প্রথম এই আবিষ্কার উন্মুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, টেস্ট টিউবে সিএএস৯ নামে একটি ব্যাকটেরিয়াল এনজাইম টেস্টটিউবে কোষের বাইরে থাকা ডিএনএ কেটে আলাদা করে ফেলতে পারে। সেটাকে যদি চাহিদামতো নকশায় সিআরআইএসপিআর মলিকিউলের সঙ্গে আরএনএ সেগমেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে সেটা ডিএনএ’র ক্ষতিকর অংশ শনাক্ত করে সেটাকে আলাদা করে ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীদের জন্য কোনো জীব বা প্রাণীর ডিএনএ পরিবর্তন, কোনো অংশ বাদ দেওয়া, নতুন অংশ সংযোজন করা অথবা জিনোমোর নির্দিষ্ট অংশ পরিবর্তন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা দ্রুত, কম খরচের, অনেক বেশি নির্ভুল এবং জিনোম সম্পাদনার অন্যান্য প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত