স্ত্রীকে চার টুকরো করে লাশ গুমের চেষ্টা কনস্টেবলের

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ০২:২২ এএম

বাগেরহাটের শরণখোলায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ চার টুকরো করে গুমের চেষ্টার অভিযোগে মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নামে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীর চার টুকরো লাশ বস্তাবন্দি করে গুম করার সময় হাতেনাতে সাদ্দামকে আটক করা হয়।

নিহত জোছনা বেগম (৩৫) খুলনার রূপসা উপজেলার নারকেলি গ্রামের আবু বক্কর শেখের মেয়ে। সাদ্দাম শরণখোলা থানার নিয়ন্ত্রণে তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে জোছনার মা জুলেখা বেগম বাদী হয়ে জামাতা সাদ্দামকে আসামি করে শরণখোলা থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

নিহতের বোন রেহানা বেগম বলেন, ‘এক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর গত জানুয়ারিতে জোছনাকে বিয়ে করে সাদ্দাম। জোছনার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তার আগের ঘরে একটি ছেলে আছে। আমার বোন সম্প্রতি সন্তানসম্ভবা হয়। জোছনাকে টুকরো টুকরো করে হত্যা করে সাদ্দাম। পরে পেট কেটে বাচ্চাটা পর্যন্ত বের করেছে। আমি ওর (সাদ্দাম) ফাঁসি চাই।’

পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র বলেন, কনস্টেবল সাদ্দাম এক বছর আগে তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করে। সাদ্দামের দুই স্ত্রী। সে ফাঁড়ি এলাকায় একটি বাসা ভাড়া করে দ্বিতীয় স্ত্রী জোছনাকে নিয়ে থাকত। এখানে আসার পর থেকে তারা তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ করত। এর জের ধরে বুধবার রাতের কোনো এক সময় ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সাদ্দাম। পরে শরীর থেকে মাথা, দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে এবং পেট ফেড়ে গর্ভের বাচ্চাটি বের করে মরদেহ গুম করতে বস্তাবন্দি করে রাখে। পুলিশ গোপন খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বস্তাবন্দি লাশসহ সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, সদর হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত