মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে ৩২তম স্প্যান ওয়ান-ডি। এরমধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৪ হাজার ৮০০ মিটার অর্থাৎ প্রায় ৫ কিলোমিটার। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্প্যানটি বসানো সম্পন্ন হয় বলে নিশ্চিত করেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। এর আগে চলতি বছর ১০ জুন পদ্মা সেতুর ৩১তম স্প্যান বসানো হয়।
এর আগে সকাল ৭টা থেকে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৯ ঘণ্টা চেষ্টা করেও পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি। পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি নোঙর করতে না পারায় ওইদিনের কার্যক্রম স্থগিত করে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াসহ সবকিছু অনুকূলে থাকায় গতকাল স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়।
জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানকে বহন করে রওনা দেয় ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেনটি। প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছায় ওইদিন দুপুর ২টার দিকে। এরপর থেকে স্প্যানবহনকারী ক্রেনটি নোঙর করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে আর করতে পারেনি। রাত থেকে সেখানেই অবস্থান করে ক্রেনটি।
পদ্মা সেতুর প্রকৌশল সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন স্প্যান বসানোর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়। বর্তমানে পদ্মায় পানির গভীরতা অনুকূলে আসায় প্রকৌশলীরা স্প্যান বসানোর কাজে গতি আনার পরিকল্পনা করছেন। মাওয়া প্রান্তে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানো আছে দুটি স্প্যান। এর পাশেই ৩২তম স্প্যানটি বসানো হয়।
