ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ৩০ লাখ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৬ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বেশিরভাগ মানুষই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৪২ হাজার। আগস্ট শেষে এ সংখ্যা বেড়ে উন্নীত হয়েছে ২৯ লাখ ২১ হাজারে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ছিল ২৫ দশমিক ১৭ লাখ। জুলাইয়ে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৪২ লাখ। ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং। আর বর্তমানে এই ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। তাদের ভাষ্য, করোনাভাইরাস মহামারীর পর মানুষ আরও সতর্ক হয়ে গেছে। এমনকি ব্যাংকিং কার্যক্রমেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে তারা। ইন্টারনেট ব্যাংকিং গ্রাহকদের ঘরে বসে কোনো রকম সংক্রমণ আশঙ্কা ছাড়াই ব্যাংক লেনদেনের সুবিধা দিচ্ছে। ফলে করোনা পুঁজি করে বেড়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক বেড়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮২ জন।

গ্রাহক বাড়ার এই হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ লাখ ৮০ হাজার নতুন গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে যোগ হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২০টি ট্রানজেকশনে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা লেনদেন করতে পারেন। ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা লেনদেন করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগস্টে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ দশমিক ১ কোটি টাকা; যা এর আগের মাসের লেনদেনের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ে এ অঙ্ক ছিল ৬ হাজার ২৫৪ দশমিক ৯ কোটি টাকা। করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষ বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গত জুনে। ওই মাসে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন রেকর্ড বেড়ে ঠেকে ৭ হাজার ৪২১ দশমিক ১ কোটি টাকায়। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেপ্টেম্বরে আন্তঃব্যাংক দৈনিক অনলাইন লেনদেনের সীমা বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীদের জন্য লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে ৫ গুণ।

ব্যক্তিপর্যায়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০টি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে। আর পৃথক লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয় প্রতি এক লাখ টাকা। এর আগে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ের ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো পৃথক লেনদেনের সীমা ছিল না। প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিÑ উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা লেনদেনের অনুমোদন ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের অধীনে ইন্টারনেট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত