আমাদের দেশে এরইমধ্যে করোনাকালের গল্প নিয়ে বেশকিছু নাটক তৈরি হয়েছে। সব না দেখা হলেও বেশিরভাগ কাজ দেখার সুযোগ হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছিল কী যেন একটা গ্যাপ রয়েছে। ঘরবন্দি জীবনের দিকেই নির্মাতারা যেন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন। হয়তো পর্যাপ্ত বাজেট না থাকা কিংবা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে নির্মাতারা সহজ গল্প বলতে চেয়েছেন। সম্প্রতি বিঞ্জে মুক্তি পাওয়া অনিমেষ আইচের ‘মুখ আসমান’ যেন করোনাকালে ঘরের বাইরের চিত্রকে একটি জানালা দিয়ে দেখা। অনিমেষ চিকিৎসক সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তাতে বাদ যায়নি পেশাগত দায়িত্ব, তা পালনের দায়বদ্ধতাও। নির্মাতা আরও তুলে ধরেছেন চিকিৎসকদের পরিবারের আত্মত্যাগ, সূক্ষ্ম আবেগ ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুননের গল্প। করোনার থাবা যে সব স্বপ্ন পূরণ হতে দেবে না সেটাও দেখা যায়।
করোনার পুরোটা সময়ে সবাই রোগীর কষ্ট, লাইন দিয়ে করোনা টেস্ট করা, আইসিইউ স্বল্পতা, পিপিই বা মাস্কের মান নিয়ে প্রশ্ন নিয়েই কথা বলেছেন। সেই বিষয়গুলো কোনো নাটকে সেভাবে প্রতিফলিত হয়নি। কিন্তু অনিমেষ আইচ সেটা খুবই পরিশীলিতভাবে দেখিয়েছেন। ‘মুখ আসমান’ দেখে দর্শক মনে করবেন, এটা কোনো ছোটপর্দার কাজ নয়, যেন পূর্ণদৈর্ঘ্য একটি সিনেমা। এগুলো গল্পের অনুষঙ্গ, চিত্রগ্রহণ, দৃশ্য বিভাজন, সংলাপের পরিমার্জন, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সবই দর্শককে মানসম্মত কাজের স্বাদ দেবে।
এবার আসা যাক ‘মুখ আসমান’-এর অন্যতম শক্তিশালী অংশে। পাত্র-পাত্রীর অভিনয় যদি ভালো না হয় তাহলে হাজার চেষ্টা করলেও দর্শক মুগ্ধ হয় না। ‘মুখ আসমান’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে রূপদানকারী আশনা হাবিব ভাবনা। তার আগের কাজ যারা দেখেছেন তারা জানেন তিনি অভিনয়ের ক্রাফট নিয়ে কতটা সচেতন। এ নাটকে তিনি একজন করোনা যোদ্ধা, অর্থাৎ চিকিৎসক। কাজটিতে নতুন ভাবনাকে আবিষ্কার করবেন দর্শক। তিনি দৃশ্যকে অতি আবেগময় করতে মেলোড্রামাটিক অভিনয় করেননি। অভিনেতাকে জানতে হয় নিজেকে কোথায় থামাতে হয়, সেটা ভাবনা পেরেছেন। তাইতো করোনায় মায়ের মতো বড় বোন দীপা খন্দকারকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর তিনি সহসাই আহাজারি করেন না। তাকে বেদনাগুলো কুরে কুরে খায়, নিজেকে নিঃশেষ করার পর্যায়ে পৌঁছতে বাধ্য করে। গ্ল্যামারাস ভাবনার নো মেকাপ লুকের প্রশংসা ইতিমধ্যেই করছেন সবাই। শুধু ভাবনা কেন, দীপা খন্দকারকে অনেকদিন পর এত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছে কেউ। সোলায়মান খোকা জাত অভিনেতা, ‘অযান্ত্রিক’ স্বল্পদৈর্ঘ্যরে প্রশংসা হজম করতে না করতেই আবারও দর্শককে মুগ্ধ করলেন একজন আটপৌরে বাবার ভূমিকায়। অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হয়েও দারুণ অভিনয় করলেন শিশির আহমেদ ও নীল কাব্য।
