এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইসির মামলা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৬ এএম

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে গালি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন থানায় মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম এ মামলা করেন।

মামলায় ২০১৩ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা এবং ২০১৬ সালের উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ওসি নাজনীন খানম জানান, এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এজাহার দাখিল করেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি রুজু করা হবে।

মামলার বাদী নওয়াবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছি।’

গত ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ডিসিকে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। একই দিন চরভদ্রাসনের ইউএনওকে ফোন করে তিনি ভাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) গালিগালাজ করেন। এ দুই ঘটনার অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন নিক্সন চৌধুরী। তার দাবি, হুমকি দেওয়ার যে অডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে, তা ‘সুপার এডিটেড’।

এরপর গত বুধবার ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নিক্সনের বিচারের দাবি জানায়। একই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত জানান। এরপরই গতকাল মামলা করা হলো।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলার উপনির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করায় জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ফোন করে কৈফিয়ত দাবি করেন এমপি নিক্সন। তার সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হলে মহাসড়ক অবরোধ করার হুমকি দেন এবং অশোভন আচরণ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনের দিন একটি ভোটকেন্দ্রের বুথের সামনে জাল ভোট দেওয়া ও ধূমপান করার সময় একজন পোলিং এজেন্টকে আটকের পর চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে এমপি অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেন।

একজন সংসদ সদস্য হয়েও নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থেকে নির্বাচনের প্রচারে অংশগ্রহণ করে এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই নির্বাচনে ৬ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাওসার হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কেএম ওবায়দুল বারী পান ৫ হাজার ৩৪৬ ভোট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত