ধর্ষণের বিরুদ্ধে ঢাকা টু নোয়াখালী ‘লংমার্চ’ শুরু

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪০ এএম

‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে ঢাকা থেকে নোয়াখালী লংমার্চ শুরু করেছে বাম ধারার রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে লংমার্চ শুরু করে তারা।

লংমার্চ শুরুর আগে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘সরকার আজকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। আজকে মৃত্যুদণ্ড থেকেও যেটি বেশি প্রয়োজন সেটি হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ। সম্প্রতি ধর্ষণকাণ্ডের পর তার যে বক্তব্য, তা নারী নিপীড়কদের প্রশ্রয় দেয়।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘সারা দেশে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্ষণ অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে, যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে আমাদের এই লংমার্চ।’

সিপিবি নারী সেলের সদস্য লুনা নূর বলেন, ‘সার্টিফিকেট হারানো বিচারহীনতার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লড়াই-সংগ্রামকে সমন্বিত করতে, দেশবাসীর চেতনা ও অবস্থানকে সমন্বিত করতে আমাদের আহ্বান থাকবে এই লংমার্চে।’

এ সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স জানান, লংমার্চটি শাহবাগ, গুলিস্তান হয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায়। তারপর তারা যাবেন সোনারগাঁও; সেখান থেকে কুমিল্লায় পৌঁছাবেন শুক্রবার বিকেলে। কুমিল্লা শহরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার পর লংমার্চ যাবে ফেনীতে। শনিবার ফেনী শহরে সমাবেশ শেষে দাগনভূঞা, নোয়াখালীর চৌমুহনী হয়ে লংমার্চ যাবে বেগমগঞ্জের একলাশপুর। শনিবার বিকেলে সেখান থেকে মাইজদী কোর্টে। সেখানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে লংমার্চ।

উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের রিপন চাকমা প্রমুখ।

ধর্ষণের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ, বিক্ষোভ : সারা দেশে ধর্ষণ, খুন ও নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সমাবেশ করেছে ইসলামি সমমনা দলগুলো। জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সম্মিলিত ইসলামিক দলের ব্যানারে তারা এই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর আমির ও সম্মিলিত ইসলামিক দলের সমন্বয়ক নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, সারা দেশ ধর্ষণের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। যারা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারা সরকারি দলের বিভিন্ন পদ-পদবি বহন করে। এ সময় ধর্ষণ প্রতিরোধে তিনি সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি দেশে খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধ করতে না পারে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। সরকার নানাভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য সকল দলের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত