শেখ রাসেলের জন্মদিনকে জাতীয় দিবস ঘোষণার দাবি

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৩ এএম

বাংলাদেশের মাটিতে যেন শেখ রাসেলের মতো আর কোনো নিরপরাধ শিশুকে প্রাণ দিতে না হয় তার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে এবং সে জন্য প্রত্যেক শিশুকে প্রস্তুত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করারও দাবি জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশুদের আগামী দিনের ডিজিটাল বাংলাদেশের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আইসিটি বিভাগ সারা দেশে ৮ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে। আরও ৫ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব এবং ৩০০টি স্কুলে “স্কুল অব ফিউচার” স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।’

আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাহমুদ উস্ সামাদ চৌধুরী, নাফিজ সরাফাত, তরফদার মো. রুহুল আমিন, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, কে এম শহিদ উল্যা প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল।

অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।

হাসুমণির পাঠশালার আয়োজন : শেখ রাসেলের জন্মদিনে শেখ হাসিনা রচিত ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ অবলম্বনে গতকাল রবিবার গোলটেবিল আলোচনা ও শেখ রাসেল ভার্চুয়াল গ্যালারির উদ্বোধন করা হয়েছে। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘এই দিনটি আমাদের জন্য হওয়া উচিত ছিল আনন্দের দিন, অথচ এই দিনটি আমাদের যেন শোকের দিন। কেননা ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেট ১০ বছরের ছোট্ট রাসেলকেও রেহাই দেয়নি। সে জন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ে জড়িত অপরাধী, যারা এখনো বিদেশ পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুতবিচার সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি।’

এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘ঘাতকরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করলেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না। সেই প্রত্যাশায় তারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকেও ছাড় দেয়নি। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; বরং বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

শরীফ আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা উভয়েই শেখ রাসেলকে খুব ভালোবাসতেন। সেই ভালোবাসা থেকেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা চাই আমাদের প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় বেড়ে ওঠে।’

অনুষ্ঠানে ‘আঁক তোমার স্বপ্ন’ শীর্ষক শিশুতোষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, সিনিয়র ফটোসাংবাদিক পাভেল রহমান, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন হাসুমণির পাঠশালার সভাপতি মারুফা আক্তার পপি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত