টেলিভিশনের সংবাদে স্পন্সর

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ আপিলে স্থগিত

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৭ এএম

টেলিভিশনে সংবাদ শিরোনামসহ সংবাদের বিভিন্ন অংশে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর বা পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত হয়ে গেছে। এক বছরের বেশি সময় আগে হাইকোর্টের দেওয়া ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা) ও একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের করা লিভ-টু আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুলের শুনানি শেষে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সংবাদ প্রচারের সময় শিরোনাম ও সংবাদের বিভিন্ন অংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর বা পৃষ্ঠপোষকতায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে গত বছরের ৬ মে রায় দেয় হাইকোর্ট। ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বেসরকারি সব টেলিভিশন চ্যানেলকে এ রায় মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল হয়। শুনানিতে বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। চ্যানেল আইয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন, দীপ্ত টেলিভিশনের পক্ষে মুরাদ রেজা এবং চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান।

অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের কাছে বলেছি, টেলিভিশনগুলোর আয়ের উৎস তাদের বিজ্ঞাপন। এ আয়ের ওপর নির্ভর করে তারা টিকে থাকে। এটা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অনেক চ্যানেলই টিকে থাকতে পারবে না। আদালত এসব বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছে।’ বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশের ফলে টেলিভিশন সংবাদে স্পন্সর বা পৃষ্ঠপোষকদের বিজ্ঞাপন প্রচারে আপাতত কোনো বাধা নেই।’ 

টেলিভিশন সংবাদে এ ধরনের বিজ্ঞাপনদাতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা সংবাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন উল্লেখ করে ২০১১ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের সাবেক শিক্ষক এমএ মতিন। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৭ অক্টোবর এ নিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। তথ্য সচিব, আইন সচিবসহ বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ২০১৫ সালে রিটকারী মারা গেলে ফারুক মো. হাসিব নামে একজন রিটের পক্ষভুক্ত হয়ে মামলা চলমান রাখেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ওই রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত