এক শহরে দুই বাসিন্দার করোনাকাল

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪০ এএম

একসময় অনেক মানুষ থাকলেও ইতালির নরসেস শহরের বাসিন্দা এখন শুধু দুজন। শৈশব আর পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত নীরব শহরটিতে জীবনের শেষ সময় কাটাতে চান তারা। মহামারীকালে তাদের খোঁজ নিতে নরসেসে গিয়ে হাজির হয় সিএনএনের একটি দল। তাদের প্রতিবেদন অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি

জিওভান্নি ক্যারিলি ও জিয়ামপিয়েরো নোবিলি

ইতালির ছোট্ট এক শহর নরসেস। পুরো শহরের বাসিন্দা শুধু বয়স্ক দুজন মানুষ। একেবারে মাটির মানুষ যাকে বলে। একে একে সবাই শহর ছেড়ে চলে গেলেও এই দুজন শৈশব আর পূর্বপুরুষের স্মৃতি আঁকড়ে এখনো পড়ে আছেন। এর মধ্যে হঠাৎ করেই পৃথিবীজুড়ে আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস মহামারী। দেশে দেশে শুরু হয়েছে লকডাউন। চালু হয়েছে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নানা নিয়মকানুন। বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মুখে মাস্ক ব্যবহার। অন্যতম আক্রান্ত দেশ হিসেবে ইতালিতে এই বিধিনিষেধগুলো আরোপ করা হয়েছে আরও কড়াকড়িভাবে। কিন্তু নরসেস শহরের বাসিন্দা শুধু দুজন মানুষ। ফলে মানুষ থেকে মানুষে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা সেখানে নেই বললেও চলে। তবু এই শহরের দুই বাসিন্দার সচেতনতা যে কোনো মানুষের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক।

সচেতনতা থেকেই শহরের দুই বাসিন্দা জিওভান্নি ক্যারিলি ও জিয়ামপিয়েরো নোবিলি যখন একে অপরের সঙ্গে দেখা করেন, তখন তারা অবশ্যই মুখে মাস্ক ব্যবহার করেন। শুধু তা-ই নয়, তারা একে অপরের কাছ থেকে এক মিটার দূরত্বে অবস্থান করার নিয়মটিকেও অনুসরণ করেন। নির্জন শহরে তাদের আর কোনো প্রতিবেশী নেই। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এই শহরের সঙ্গে অন্য এলাকাগুলোর কোনো যোগাযোগ নেই বললেই চলে। ক্যারিলি ও নোবিলিও পারতপক্ষে শহরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত আছেন।

নরসেস শহরটি পেরুগিয়ার মধ্যে পড়েছে। ইতালির আম্ব্রিয়া প্রদেশের রাজধানী হলো পেরুগিয়া। এই অঞ্চলটি পর্যটক সমাগমের জন্য বিখ্যাত। পেরুগিয়ার ন্যারিনা নামক একটি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় নরসেস শহরটির অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই শহরের উচ্চতা কম করে হলেও ৯০০ মিটার। ফলে এখানে সাধারণ মানুষের চলাফেরাও খুব সীমিত।

বিচ্ছিন্ন একটি শহরের বাসিন্দা হলেও ৮২ বছরের ক্যারিলি কিংবা ৭৪ বছরের নোবিলির কেউই কভিড-১৯ ভাইরাসের কাছ থেকে নিরাপদ বোধ করছেন না। কারণ ইতালিতে এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এসব ব্যক্তির বেশির ভাগই বয়স্ক।

সম্প্রতি সিএনএন ট্রাভেলের একটি দল নরসেস শহরে গিয়ে হাজির হয়। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্যারিলি বলেন, ‘এই ভাইরাসের জন্য আমি প্রাণসংশয়ে আছি। যদি অসুস্থ হয়ে যাই, তবে কে আমার দেখাশোনা করবে? আমি তো একাই থাকি।’

ক্যারিলি আরও বলেন, ‘বৃদ্ধ হলেও আমি বেঁচে থাকতে চাই। আমার ভেড়ার পাল, আঙুরগাছ, মৌমাছির চাক আর বাগানগুলোকে দেখাশোনা করতে চাই। খুঁজে খুঁজে সংগ্রহ করতে চাই মাশরুম আর শাকসবজি। আমি আমার জীবনকে এখনো উপভোগ করছি।’

করোনার ভয়

ইতালিতে বর্তমানে একে অপরের কাছ থেকে ন্যূনতম এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর জনসমাগমের স্থানগুলোতে মুখে মাস্ক থাকতেই হবে। ঘরের বাইরে কিংবা কোনো হলরুম দুই জায়গায়ই এই নিয়মগুলোকে অনুসরণ করতে হবে। তবে, নিজ বাড়ির অন্দরমহলে এসব নিয়ম মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

জানা গেছে, ইতালির বড় বড় ঘনবসতির শহরগুলোতে যারা মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন না, তাদের ধরে ধরে সর্বনিম্ন ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড জরিমানা আদায় করছে স্থানীয় পুলিশ বাহিনী। নরসেস শহরের বাসিন্দা ক্যারিলি ও নোবেলি এ ধরনের বিধিনিষেধের আওতায় না থাকলেও নিতান্ত ভয় থেকেই সাক্ষাতের সময় তারা মুখে মাস্ক পরেন। এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে নীতি-নৈতিকতার ব্যাপারটিও কাজ করে।

সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশে বসবাস করলেও নোবিলি মনে করেন, মহামারীর এ সময়টিতে যেসব নিয়মকানুন চালু হয়েছে, সেগুলোকে মেনে না চলা মানে দেশের আইনকানুনের প্রতি অসম্মান জানানো। তিনি বলেন, ‘মুখে মাস্ক ব্যবহার কিংবা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা শুধু স্বাস্থ্যরক্ষার খাতিরে নয়।’

নোবিলি আরও বলেন, ‘এটি ভালো কিংবা মন্দেরও কোনো ব্যাপার নয়। যদি কোনো নিয়মকানুন জারি করা হয়, তবে এগুলোকে মান্য করতে হবে নিজের পাশাপাশি অন্য মানুষের জন্যও। এটা নীতি-নৈতিকতার একটি ব্যাপার।’

নরসেস শহরের দুই বাসিন্দা মাঝেমধ্যে চা-কফির আড্ডায়ও বসেন। এই আড্ডাটি সাধারণত বয়োজ্যেষ্ঠ ক্যারিলির বাড়িতেই অনুষ্ঠিত হয়। যে টেবিলে বসে তারা আড্ডা দেন, সেটি অন্তত দুই মিটার লম্বা। টেবিলের দুই প্রান্তে বসেন দুজন।

প্রায় প্রতিদিনই হাঁটতে বের হন তারা। হেঁটে হেঁটে বাড়ি থেকে খানিক দূরেই রোমান আমলে পাথর নির্মিত একটি ঝরনা দেখতে যান। টাটকা বাতাস গায়ে মাখার পাশাপাশি সেখান থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করেন দুই বৃদ্ধ।

নরসেস শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ক্যারিলি। কিন্তু জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন রোম শহরে। সেখানে একটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। অবসর নেওয়ার পর ফিরে আসেন তার ছেলেবেলার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে। নোবিলি তার ভগ্নিপতির ভাই। জীবনের পড়ন্ত বেলায় নোবিলিও নির্জন এই শহরে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যৌবনে একটি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। সেই অভ্যাস থেকেই এখন তিনি বাড়ির ভেতরেই গহনা নির্মাণ করেন। নোবিলি জানান, শহরে প্রকৃতির প্রাচুর্য, চারপাশ জুড়ে ঘন অরণ্য আর নান্দনিক দৃশ্যাবলি তাকে এখনো শিল্প সৃষ্টির অনুপ্রেরণা দেয়।

একসময় নরসেসে আরও অসংখ্য বাসিন্দা ছিল। তাদের বেশির ভাগই এখন রোম কিংবা অন্যান্য শহরে চলে গেছে। গত শতাব্দীতে ইতালিতে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প সংঘটিত হলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ছেড়ে তারা অন্যত্র চলে যান। তবে, ক্যারিলি আর নোবিলি সেই দলে ছিলেন না। তারা এখনো সেখানে রয়ে গেছেন। এ দুজন ছাড়া তাদের সঙ্গ দেওয়ার মতো আছে শুধু ক্যারিলির পোষা একটি কুকুর আর তার পাঁচটি ভেড়া। বাড়ির পেছনের আঙিনায় থাকে এই প্রাণীগুলো। বিভিন্ন উৎসব কিংবা অনুষ্ঠান উপলক্ষে শহরের বাইরে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে তারা মাঝেমধ্যে দেখা করতে যান।

নির্জন শহর

বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে নরসেস শহরের যোগাযোগটি বেশ রোমাঞ্চকর। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে চুল কাটার মতো অসংখ্য মোড় নিয়ে সরু একটি রাস্তা মিশে গেছে মূল ভূমিতে। দুর্ঘটনা রোধে এই রাস্তার পাশে কোনো সুরক্ষা রেলিংও নেই। এই রাস্তা ধরে হাঁটলে হৃদয়কাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকে। যত দূর চোখ যায়, দেখা যায় সারি সারি পাহাড়। একসময় এ রাস্তা ধরে অসংখ্য তীর্থযাত্রী আর পর্যটক আসা-যাওয়া করত।

প্রিয় কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে মাটির নিচে এক ধরনের আলু খুঁজতে খুঁজতে ক্যারিলি বলেন, ‘সরু রাস্তাটি এখানেই শেষ হয়েছে। এ রাস্তায় যারা আসেন, তারা নরসেস শহর দেখার জন্যই আসে।’

প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে নরসেসে একটি মিলনমেলা হয়ে যায়। এই শহরের পুরনো অনেক বাসিন্দা পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো দেখার জন্য পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন। ভূমিকম্পে দুর্ঘটনার ভয়ে তারা অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। ৯০-এর দশকে উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে নরসেসের লোকসংখ্যা। ২০০১ সাল পর্যন্ত এখানে মাত্র সাতজন বসবাস করতেন। বর্তমানে আছেন কেবল দুজন।

নরসেস শহরটির গোড়াপত্তন হয়েছিল মধ্যযুগে। মূলত কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত রোমান আমলে নির্মিত অ্যাসকোলি পিচেনো শহর দেখার জন্য এখানে বসতি স্থাপন শুরু হয়। নরসেস শহরের শুরুটা হয়েছিল এক কৃষকের হাত ধরে। কাছের আরেকটি শহর রোশেট্টা থেকে তিনি সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পরে সেখানে তিনি একটি বাদামগাছ রোপণ করেন।

শৈশবের কথা আজও মনে পড়ে ক্যারিলির। বাড়ির সামনেই একটি ফাঁকা জায়গায় নতুন ফসল ঘরে তোলার উৎসবের কথা এখনো মনে আছে তার। ফসল মাড়াইয়ের জন্য গ্রামের কৃষকরা গরু নিয়ে আসতেন সেখানে। মায়ের কথাও মনে পড়ে ক্যারিলির। তার মা প্রায় প্রতিদিনই অন্য নারীদের সঙ্গে মাথায় সিরামিকের পাত্র নিয়ে দূরের একটি কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে আনতেন। শহরে একটি প্রাচীন চার্চও আছে। এই চার্চে এমন একটি গম্বুজ আছে, যেখানে দাঁড়িয়ে চারপাশের অসীম সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে, এই স্থাপনাটি এখন ধ্বংসপ্রায়। পুরো শহরেই এখন সবুজের হাতছানি। কিছু ঘরবাড়ি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েক বছর আগেই প্রাচীন একটি প্রাসাদ ধসে পড়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও এর একটি অংশ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির মধ্যযুগীয় নির্মাণশৈলী ও কারুকাজে লাল, গোলাপি, সবুজ আর কমলা রঙের অপূর্ব ব্যবহার রয়েছে। জানালার কাচগুলো উজ্জ্বল রঙিন। শহরের পথে পথে প্রাচীন স্থাপনাগুলো রঙিন অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়। শহরের এক প্রান্তে একসময় গাধা চলাচলের একটি পথ ছিল। লতাগুল্ম আর বড় বড় গাছে সেই পথ এখন মুছে গেছে। পরিত্যক্ত একটি রেললাইনেরও একই অবস্থা হয়েছে।

সরল জীবন

একসময় শহুরে প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও নরসেসকে এখন একটি গ্রাম বললেও ভুল হবে না। সেখানে নেই কোনো বার ও রেস্তোরাঁ। এমনকি কোনো বাজারও নেই। তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে নরসেসের দুই বাসিন্দা কাছাকাছি শহরগুলোতে যান কদাচিৎ।

ক্যারিলি বলেন, ‘আমরা খুব সাধারণ জীবনযাপন করি। এখানে আছে প্রচুর অক্সিজেনসমৃদ্ধ বাতাস। চারপাশে যেন শান্তির সুবাতাস। নীরবতা আর ঝরনার পানি এখানে দারুণ উপভোগ্য।’

সবাই নরসেস ছেড়ে গেলেও ক্যারিলির কাছে এই শহর ছাড়া বাঁচাটাই মুশকিল। কোনো কাজে তিনি যদি বড় কোনো শহরে যান, তবে শিগগিরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি গোলমাল অপছন্দ করি।’

ওকগাছ, হর্নবিমস, বাদাম আর পাইনগাছের ঘন-জঙ্গল এখন শহর জুড়ে। এসব জঙ্গলে অসংখ্য বুনো বেরি ফল, অ্যাসপারাগাস, আলুসদৃশ ট্রাফলের লতাগাছ আর ঝোপঝাড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সর্বত্র। বড় বড় গাছ আর ঝোপঝাড়ের সমন্বয়ে নরসেসের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

তবে নরসেসের শীতকাল খুব কঠিন। এই মৌসুমে শহরটির বিচ্ছিন্নতা আরও বেড়ে যায়। ক্যারিলি আর নোবিলির কেউই তখন বাইরের শহরগুলোতে যেতে পারেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে নরসেসের পুরনো কিছু বাড়ি সংস্কার করে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন একটি বাড়ি কিছুদিন আগে ২০ হাজার পাউন্ডে বিক্রিও হয়েছে। তবে, স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কেউ এসব বাড়ি কিনবেন না বলেই মনে হচ্ছে। পাহাড়ি পরিবেশ আর বিশুদ্ধ বাতাসে এসব বাড়িতে ছুটি কাটাতে যেতে পারেন অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা। আর যদি কেউ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করেন, তবে তাদের প্রতি নোবিলির পরামর্শ হলো নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে আগ্রহীদের জীবনযাত্রায় বিপুল পরিবর্তন আনতে হবে।

নোবিলি বলেন, ‘এখানকার জীবন সহজ ও সুন্দর। তবে আপনাকে এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এখানে কোনো স্টোর কিংবা দোকান নেই। নেই কোনো ফার্মেসি কিংবা ডাক্তার।’

নোবিলি জানান, শহরে কারও যদি একটি রুটি কিংবা একটি ওষুধ কেনারও প্রয়োজন হয়, তবে তাকে অবশ্যই পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে নেমে বোগো ক্যারেতো শহরে যেতে হবে। নীরব নিস্তব্ধ বলেই নরসেসের সর্বত্র একটি ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। এখানে প্রচুর বুনো শূকর আর শেয়াল আনাগোনা করে। ক্যারিলির ভেড়াগুলো প্রায়ই শেয়ালের আক্রমণের শিকার হয়। ইতিপূর্বে কয়েকটি ভেড়াকে মেরেও ফেলেছে শেয়ালগুলো। শেয়ালের হাত থেকে ভেড়াগুলোর সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নজরদারি করে ক্যারিলির কুকুরটি।

নরসেস নিয়ে এমনও গল্প প্রচলিত আছে যে, এখানকার সাদা গ্রানাইট পাথরের কবরগুলোর মধ্যে প্রেতাত্মারা লুকিয়ে আছে। তারা প্রায়ই আশপাশের অঞ্চল থেকে ঘোড়া চুরি করে রাতভর পাহাড় আর জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। পরদিন সকালে এসব ঘোড়াকে ঘর্মাক্ত ও ক্লান্ত অবস্থায় আবিষ্কার করেন তাদের মালিকরা।

সব মিলিয়ে প্রবীণ দুই বাসিন্দা মনে করেন, তাদের শহরে চাইলেই কেউ বসবাস করতে পারবেন না। নিঃসীম নীরবতা আর প্রাচীন আবহে তারা হয়তো ভয়েই শেষ হয়ে যাবেন। কিন্তু ক্যারিলি আর নোবিলির এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। তাদের জীবনে আর কোনো চাওয়া-পাওয়াও নেই। তারা প্রকৃতির সঙ্গেই মিশে গেছেন। নিজের আঙুর বাগান থেকে প্রতি বছরই বেশ কয়েক বোতল ওয়াইন তৈরি করেন ক্যারিলি। শীতকালে যখন বরফ পড়ে এবং সবকিছু ঠা-ায় জমে যায়, তখন বাড়ির ভেতরে ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে ওয়াইন পান করেই তাদের দিনগুলো কেটে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত