এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), ইবতেদায়ি সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণা হয়েছে আগেই। কিন্তু ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোন পদ্ধতিতে পরবর্তী ক্লাসে উঠবে তা নিয়ে খানিকটা উৎকণ্ঠায় রয়েছে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা। অবশেষে এই উৎকণ্ঠার অবসান হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা না নিয়ে অটো প্রমোশন নাকি প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে ভর্তি করাবেন তা বিস্তারিত জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ বিষয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আগামীকাল ২১ অক্টোবর দুপুর ১২টায় মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্স করবেন।’
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীরা ‘অটো প্রমোশনে’ নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবে না। যেকোনো পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে তাদের নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে।
তিনি আরও বলেছিলেন, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যেকোনো পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু) একটি নির্দেশনা তৈরি করে দেবে। আর এই নির্দেশনা তৈরির মূলনীতি হবে করোনা শুরুর আগে ১৫ মার্চ পর্যন্ত যতটুকু ক্লাস হয়েছিল সেটি এবং এরপর সংসদ টিভি ও অনলাইনে যতটুকু ক্লাস হয়েছে সেটিকে বিবেচনা নিয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু) ইতিমধ্য একটি নির্দেশনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প উপায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। আর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।’
উল্লেখ্য, টানা ৭ মাস ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও স্কুলগুলোর মূল্যায়নেই শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে বলে শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
