কুমিল্লায় দুই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ৮৩ মামলা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৪ এএম

কুমিল্লায় অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা। ধর্ষণের পর খুনের মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটছে।

কুমিল্লার আদালত ও বিভিন্ন থানায় গত দুু’মাসে যেসব মামলা হয়েছে, এসব মামলা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ ভাগ মামলাই প্রেমঘটিত। গত দুই মাসে কুমিল্লা জেলায় ধর্ষণের ঘটনায় ৩৪টি মামলা করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে মামলা হয় ১৩টি এবং সেপ্টেম্বর মাসে মামলা হয়েছে ২১টি। এর মধ্যে থানায় মামলা হয়েছে ২৩টি, আদালতে মামলা হয়েছে ১১টি। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয়েছে মোট ৯টি, যার মধ্যে ২টি মামলা আদালতে করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, পরিসংখ্যান এবং মামলার ধরন পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে, ২৮টি ধর্ষণ মামলাতেই প্রেমঘটিত কারণ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দু’মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মোট মামলা হয়েছে ৮৩টি। ৩৪টি ধর্ষণের মামলা ছাড়াও অপহরণের মামলা রয়েছে ১৯টি, যার  বেশিরভাগই প্রেমঘটিত বলছে পুলিশ। এছাড়া যৌতুকের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৫টি এবং শ্লীলতাহানিসহ অন্যান্য ঘটনায় মামলা হয়েছে আরও ৬টি।

গত ১১ জুন কুমিল্লা নগরীর ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার সামনে থেকে প্রথম বর্ষের এক কলেজছাত্রীকে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার আলাউদ্দিন সরকার সানমুন ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে। পরবর্তী সময়ে তাকে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে প্রায় চার মাস পর গত ১ অক্টোবর ওই ছাত্রীকে পুলিশ উদ্ধার করে এবং সানমুনসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।

অপর এক ঘটনায় রবিউল আউয়াল নামের একজনের সঙ্গে এক মাদ্রাসাছাত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয়। এরপর তাকে কৌশলে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ের নাটক। পরে সিলেটের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের পর প্রেমিকাকে বাথরুমে আটকে  রেখে পালিয়ে আসে প্রেমিক রবিউল আউয়াল (২৯)। ওই ছাত্রীর করা মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কোচিং শিক্ষকের ধর্ষণে মা হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, নাঙ্গলকোটে চাচার ধর্ষণে ভাতিজি অন্তঃসত্ত্বা হয়। শহরতলির দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে  মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছে বাবা, চান্দিনায় মুহতামিমের ধর্ষণের শিকার হয়েছে মাদ্রাসার ছাত্রী। এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, কমবয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব এবং অন্যান্য ইন্টারনেট কনটেন্টের সহজলভ্যতা ও সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি কমে গেছে। যার কারণে কমবয়সী ছেলেমেয়েরা সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে বা ঘর ছেড়ে যাচ্ছে সহজে। তারপর যখন আবার কোনো কারণে তারা ঘরে ফিরছে তখন অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে হয় ধর্ষণ মামলা বা অপহরণ মামলা হচ্ছে। সবক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে এই ধর্ষণের ঘটনা কমিয়ে আনা যাবে না, তার জন্য সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত