রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করতে মিয়ানমারকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করবে চীন। আগমী ৮ নভেম্বর দেশটির সাধারণ নির্বাচনের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে ও পরে মন্ত্রিপর্যায়ে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এ আশ^াস দেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেলিফোনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ঢাকায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় প্রস্তুতিমূলক বৈঠক দ্রুত শুরু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ‘চীনকে মিয়ানমার জানিয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করবে। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া হবে বলে সম্প্রতি মিয়ানমার আবারও চীনকে আশ্বস্ত করেছে। চীন রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে রোহিঙ্গাদের যাতে ফেরত নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে মিয়ানমার কাজ করবে বলে চীনকে তারা জানিয়েছে।’
পিরোজপুরে চীনের নাগরিক হত্যার বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার দ্রুত বিচারের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের ওপর চীন সরকার আস্থাশীল। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ওই ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে যারা করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশে এসে আটকা পড়েছেন, তাদের ভিসা নবায়নের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান মোমেন।
ওয়াং ই-কে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রবেশের বিষয়ে সে দেশের সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে।
